০৮ ডিসেম্বর, ২০১৫ ০৯:০৪
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প থেকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ৩ কোটি ২৪ লাখ ডলার ঋণ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। বর্তমান বিনিময় অনুযায়ী এর পরিমাণ ২৫৩ কোটি টাকা।
প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি এবং লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অনিশ্চয়তার কারণে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাটি এ অর্থ প্রত্যাহার করে নিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ অর্থ ভবিষ্যতে অন্য প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এডিবির এক মিশনের প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ বাতিল করেছে সংস্থাটি। মোট ৪৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের অর্থায়নের বড় অংশ দিচ্ছে না এডিবি। এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি প্রকল্পের বিভিন্ন খাত বাদ দিয়ে দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর।
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক বাবর আলী বলেন, পরামর্শক নিয়োগে দুই বছর পার হয়ে গেছে। এর পর জনবলসহ নানা সমস্যা ছিল। এ কারণে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় অগ্রগতি হয়নি। ফলে এডিবি পেশাগত দক্ষতা বাড়ানো-সংক্রান্ত অংশের অর্থ বাতিল করেছে। ৪০টি মাল্টিপারপাস ওয়ার্কশপ ভবন নির্মাণসহ যন্ত্রপাতির সংস্থান প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
২০০৮ সালে চার বছর মেয়াদি প্রকল্পটিতে মোট ব্যয় ধরা হয় ৪৬০ কোটি টাকা। সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৭৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং অবশিষ্ট ৩৮৬ কোটি টাকা বৈদেশিক সাহায্য হিসাবে পাওয়ার কথা। এর মধ্যে দাতা সংস্থা এডিবি ৩৫৯ কোটি টাকা ঋণ এবং সুইডিস ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন (এনডিসি) ২৭ কোটি টাকা অনুদান দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। এডিবির ঋণ প্রত্যাহারের কারণে প্রকল্পটির বর্তমান প্রস্তাবিত ব্যয় ১৬২ কোটি টাকা।
এডিবি ঢাকা কার্যালয়ের যোগাযোগ কর্মকর্তা গোবিন্দ বার বলেন, নানা কারণে প্রকল্পে অর্থ প্রত্যাহার বা বাতিলের ঘটনা ঘটে। মূলত ঋণের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার করার জন্য সবার সঙ্গে আলোচনা করে অর্থ বাতিলের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাটিও ব্যতিক্রম নয়। পরিকল্পনা কমিশনের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রকল্পটির বাস্তবায়ন ও যন্ত্রপাতি ক্রয় প্রক্রিয়া নিয়ে দাতা সংস্থাগুলোর অসন্তোষ রয়েছে।
ভবিষ্যতে এই অর্থ ব্যয়ে অনিয়ম হতে পারে এমন সন্দেহ ছিল। এর ওপর ২০০৮ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটিতে অর্ধেক অর্থও ব্যয় করা সম্ভব হয়নি। চার বছরের প্রকল্প সাত বছরেও বাস্তবায়ন গতি কম থাকায় অর্থ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ জন্য সংশোধনের প্রস্তাব একনেকে উপস্থাপন করা হবে।
সূত্র: সমকাল অনলাইন।
আপনার মন্তব্য