২৪ আগস্ট, ২০২৬ ২২:২০
সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হওয়ার আগে ‘ব্রিটিশ নাগরিকত্ব’ ছেড়েছেন কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি হুমায়ুন কবির।
তার ‘ব্রিটিশ নাগরিকত্ব’ থাকার বিষয়ে একটি সংবাদমাধ্যমে খবরের প্রকাশের প্রসঙ্গ টেনে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলে উত্তরে তিনি বলেছেন, ‘কে নিউজ করছে, কোন নিউজপেপার? কার এত জ্বালা? মানে কাজকর্ম থুইয়া…”
সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নানা প্রশ্নের জবাব দেন তিনি। টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় ঢোকা এই বিএনপি নেতা বলেছেন, তিনি বাংলাদেশি হিসেবে মন্ত্রী হয়েছেন এবং তার বাংলাদেশিত্ব নিয়ে কেউ প্রশ্ন করবে বলে মনে করেন না।
ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ছাড়ার বিষয়ে করা প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন বলেন, “আমি বাংলাদেশি। এখানে তো বাংলাদেশি মিনিস্টার হিসাবে আছি। আমি মনে করি না আমার বাংলাদেশিত্ব নিয়ে কেউ প্রশ্ন করবে। মানে এখানে আসিয়া বাংলাদেশের জন্য কাজ করা, মানে তো কোনো সুবিধাভোগী লোক করবে না।”
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসাবে শুক্রবার শপথ নেন এতদিন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করে আসা হুমায়ুন কবির। এরপর ছোটবেলা থেকে যুক্তরাজ্যে বেড়ে ওঠা এই বিএনপি নেতার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব থাকা এবং সেটা ছাড়ার প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।
শৈশব থেকে যুক্তরাজ্যে বেড়ে ওঠা হুমায়ুন কবির দেশটিতে লেবার পার্টির রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। তিনি ব্রিটিশ নাগরিক বলে যুক্তরাজ্য বিএনপির একাধিক নেতা নিশ্চিত করেছেন। তবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ (রিনাউন্স) করেছেন কি না, তা তাঁরা নিশ্চিত করতে পারেননি। বাংলাদেশ সরকারের সূত্রগুলোও বলছে, হুমায়ুন কবির নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন, এমন তথ্য তাদের কাছে নেই।
যুক্তরাজ্যের কোম্পানি নিবন্ধকের কার্যালয় ‘কোম্পানিজ হাউজ রেজিস্ট্রার’ এর সোমবারের তথ্য বলছে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ব্রিটিশ নাগরিক। তার আবাসস্থল যুক্তরাজ্য বলে সেখানে তালিকাভুক্ত রয়েছে।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬ এবং ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি দ্বৈত নাগরিক হলে তার মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীর হওয়ার সুযোগ নাই।
সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ‘সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইবার যোগ্য’ এমন ব্যক্তিদের মধ্য থেকে মন্ত্রিসভার সর্বোচ্চ এক-দশমাংশ সদস্য বেছে নিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।
অন্যদিকে ৬৬ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি কোন বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেন কিংবা কোন বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার’ করলে সংসদের সদস্য নির্বাচিত হইবার এবং সংসদ-সদস্য থাকিবার যোগ্য হইবেন না।
আবার অনুচ্ছেদেই বিধান আছে, কোনো ব্যক্তি আগে বিদেশি নাগরিকত্ব নিলেও তিনি যদি পরে সেটা ত্যাগ করেন, তাহলে সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য হয়ে যাবেন।
এমন সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার প্রেক্ষাপটে হুমায়ুন কবির প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর তার কথিত ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।
গত রোববার দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, “সিলেটে জন্মগ্রহণ করলেও মাত্র আড়াই বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে হুমায়ুন কবির পাড়ি জমান যুক্তরাজ্যে। সেখানে তিনি বেড়ে ওঠেন, নেন উচ্চশিক্ষা।
“যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন তিনি। একপর্যায়ে যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্বও নেন তিনি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, হুমায়ুন কবির বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না।”
যুক্তরাজ্যের আইনে দ্বৈত নাগরিক হলেও সে দেশে রাজনীতি করতে বা এমপি হতে বাধা নেই।
তবে তার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ছাড়ার বিষয়ে প্রকাশিত খবর এবং এ নিয়ে ইন্টারনেটে ‘শোরগোলের’ প্রসঙ্গ টেনে করা প্রশ্নে হুমায়ুন কবির হাসতে হাসতে বলেন, “আমি তো সিটিজেন নিয়ে আছি, আপনি বলেন নেটিজেন।”
গণমাধ্যমে খবরের প্রকাশের প্রসঙ্গ এক সাংবাদিক টানলে তিনি বলেন, “কোন নিউজপেপার? কার এত জ্বালা? মানে কাজকর্ম থুইয়া…”
তখন এক সাংবাদিক প্রথম আলোতে খবর প্রকাশিত হওয়ার কথা বললে হুমায়ুন কবির বলেন, “তার জ্বালা কেন হচ্ছে? তার কি ২০০৮-এর জ্বালা উঠছে নাকি আবার? মঈনুদ্দিন-ফখরুদ্দিনের জ্বালা উঠছে তার আবার নাকি?
তিনি বলেন, দেশের পক্ষে জোরাল অবস্থান নেওয়া মানুষ সকল, দেশপ্রেমিক যারা আছে, দেশের পক্ষে যারা অবস্থান নেই, যারা মিডিয়া আছে, যারা দেশবাসী আছে, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আছে, তারা সবাই মিলে ইনশাআল্লাহ এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব।
আপনার মন্তব্য