১২ ডিসেম্বর, ২০১৫ ১৩:১৮
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, "বিশ্বকে আমরা দেখিয়ে দিয়েছি আমরাই পারি, বাংলাদেশই পারে। আর ভিক্ষার ঝুলি নয়, উন্নয়ন হবে নিজেদের অর্থে"
আজ শনিবার (১২ ডিসেম্বর) পদ্মা সেতুর মূল অবকাঠামোর পাইলিং কাজের উদ্বোধন শেষে মাওয়া ঘাটে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এই কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, " জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শিখিয়ে গেছেন কারও কাছে মাথা নত না করতে, আমরা কারো কাছে মাথা নত করিনি"
নিজেদের অর্থায়নে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই প্রজেক্ট বাস্তবায়ন যাত্রার শুরুর দিনে প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন "অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে, বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির কোন প্রমাণ দিতে পারেনি। প্রমাণ হয়েছে আমরা ঠিক পথে ছিলাম"।
নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "একজন নামকরা ব্যক্তি তাঁর ব্যক্তি স্বার্থে নানান অপচেষ্টা চালিয়েছেন, কিন্তু এসব অপচেষ্টায় বাংলাদেশকে দাবায়া রাখা যাবে না"
শনিবার বেলা ১১টা ১৬ মিনিটে নাওডোবায় নবনির্মিত হেলিপ্যাডে এসে পৌঁছায় প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টার। হেলিকপ্টার থেকে নেমেই মঞ্চের পাশে অবস্থিত একটি ফলক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে পদ্মা সেতু প্রকল্পের মূল কাজ নদী শাসনের কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর স্পিড বোটে করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাওয়ায় পদ্মা সেতুর ৭ নম্বর পিলারের কাছে মূল সেতুর কাজের উদ্বোধন করেন।
সরকার আশা করছে, ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতু আগামী তিন বছরের মধ্যে যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া যাবে। দ্বিতল সেতু দিয়ে ট্রেনও চলবে।
পদ্মা সেতুর মূল কাজের নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আবদুল কাদের বলেন, ইতিমধ্যে প্রকল্পের ২৭ শতাংশ কাজ হয়েছে। এর মধ্যে সেতুর কাজের ১৭ দশমিক ২৭ শতাংশ, নদীশাসন কাজের ১৩ শতাংশ এবং উভয় প্রান্তে সংযোগ সড়কের প্রায় ৬০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। পদ্মা সেতুতে মোট পিলার থাকবে ৪২টি। এর মধ্যে ৪০টি পিলার থাকবে নদীর ভেতরের অংশে। দুটি থাকবে দুই প্রান্তে সংযোগ সেতুতে। নদীর ভেতরের ৪০টি পিলারের প্রতিটিতে ছয়টি করে পাইল করা হবে। এ জন্য মোট ২৪০টি পাইল করতে হবে। সংযোগ সেতুর দুটি পাইলে ১২টি করে ২৪টি পাইল করতে হবে।
আপনার মন্তব্য