সিলেটটুডে ডেস্ক

২১ আগস্ট, ২০২২ ০০:১৩

পুলিশ কঠোর হলে আওয়ামী লীগের টিকে থাকা কঠিন হতো: ভূমিমন্ত্রী

ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেছেন, সাধারণত যে সরকার ক্ষমতায় থাকে, দেশের পুলিশ বাহিনীকে তাদের দিক নির্দেশনায় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হয়। কিন্তু বরাবরই দেখা গিয়েছে যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতি তাদের এক ধরনের দুর্বলতা আছে। পুলিশ প্রশাসন কঠোর হলে, আওয়ামী লীগের টিকে থাকা কঠিন হয়ে যেত।

আজ শনিবার নগরীর দামপাড়ায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)কার্যালয়ের  মাল্টিপারপাস ড্রিল শেডে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। ‘স্বাধীনতার মহান স্থপতি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭ তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস’ উপলক্ষ্যে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল।   

আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য আখতারুজ্জামান চৌধুরীর ছেলে ভূমি মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী। নিজের রাজনৈতিক পরিবারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,অনেক গুরুত্বপুর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হতো আমার বাড়িতে। ঢাকা থেকে বড় নেতা কর্মীরা সেসময়ে আমার বাবার সঙ্গে আলোচনা করতে চট্টগ্রামে আসতেন। আমরা ছিলাম মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি। যার কারণে পুলিশের আচরণ ছিলো আমাদের প্রতি অনেক নমনীয়।

তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক থাকলেও তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের শেল্টার দেয়া বা সহযোগিতা করার প্রবণতা বেশি বলেই আমি দেখেছি। পুলিশ প্রশাসন যদি কঠিত হতো কিংবা আরো মারমুখী হতো তাহলে আওয়ামী লীগের টিকে থাকাই কঠিন হয়ে যেত।টিকে থাকতে আওয়ামী লীগকে অনেক বেশি কষ্ট করতে হতো।

উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, দুঃসময়ে আপনারা প্রমান করেছেন। বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্য ছিলেন, কিন্তু আমরা সব সময় খেয়াল করেছি যে আওয়ামী লীগের প্রতি তাদের সবারই দুর্বলতা কাজ করেছে।পুলিশ আমাদের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অকৃতজ্ঞ নন উল্লেখ করে ভূমিমন্ত্রী বলেন, তিনি ক্ষমতায় আসার পরে পুলিশ প্রশাসনের প্রতি নজর দিয়েছেন। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে পুলিশ বাহিনী অনেক পিছিয়ে ছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে সরকার পুলিশ বাহিনীর প্রতি খেয়াল রেখেছে, তাদের পরিবারের খেয়াল করেছে। বেতন কাঠামোসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। এই সরকার ক্ষমতায় আসার পরে পুলিশ বাহিনীকে যে উচ্চতায় নিয়ে গেছে তাতে পুলিশকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হবে না। এমনকি পুলিশের আইজিকে তিন তারকা পদমর্যাদার র‌্যাংকে নেয়া হয়েছে। এই সরকার পুলিশ বাহিনীকে ব্যাংক উপহার দিয়েছে। আমি মনে করি এর আগে যতগুলো সরকার ছিল তারমধ্যে আওয়ামী লীগ সরকার সব থেকে বেশী পুলিশ বাহিনীকে সহায়তা করেছে।

এসময় দেশের আইন শৃংঙ্খলা রক্ষায় নিরলস কাজ করে যাওয়ায় বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন,এখনও আমরা পুলিশের সহযোগিতা চাই, কিন্তু সেটা জনগণের জন্য।

সাইফুজ্জামান চৌধুরী আরো বলেন, সময়ের সঙ্গে আমাদের পরিবর্তিত হতে হবে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে পুলিশের সুনাম নষ্ট হয়। জনগণকে শান্তিতে রাখতে হবে, তাদেরকে উপযুক্ত সেবা দিতে হবে। এখানো থানাসহ বিভিন্ন জায়গায় সাধারণ মানুষকে হয়রানির শিকার হতে হয়। পুলিশকে সরকার বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে। তাহলে সাধারণ মানুষ কেন হয়রানির শিকার হবে। আগের পুলিশের অবস্থা আর এখনকার অবস্থা এক নয়, আপনারা অনেক ভালো আছেন। সেজন্য জনগণের প্রতি আপনাদের দায়বদ্ধতাগুলো পূরণ করতে হবে।

আগামী প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানাতে আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আগামী প্রজন্ম জাতির পিতাকে অন্তরে ধারণ করে চলবে। কারণ তারা বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে সঠিক ইতিহাস জানছে।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরিন আখতার, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিটের কমান্ডার মোজাফফর আহমদ, চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার এ কে এম সরোয়ার কামাল, সিএমপি কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায়, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব এম এ মাসুদ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) আ স ম মাহতাব উদ্দিনসহ পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত