সিলেটটুডে ডেস্ক

১২ এপ্রিল, ২০২৩ ১৬:০৬

মঙ্গল শোভাযাত্রা বন্ধে হুমকির চিরকুট, থানায় জিডি

১৪ এপ্রিল রাজধানীতে পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রায় হামলার হুমকি দিয়ে একটি উড়ো চিরকুট দেওয়া হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের দেয়াল সংলগ্ন চেয়ারে মঙ্গলবার রাতে একটি কাগজের টুকরায় শোভাযাত্রাকে শিরক উল্লেখ করে এ হুমকি দেওয়া হয়। কে বা কারা এই কাগজ এখানে রেখেছে সেটি স্পষ্ট নয়।

এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদের আবতাহী রহমান নামে এক শিক্ষার্থী। যার নম্বর ১৫২৭। আবতাহী রহমান মঙ্গল শোভাযাত্রা উপলক্ষে গঠিত অর্থ ও নিরাপত্তা কমিটির সদস্য।

রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. শহীদুল্লাহ ঢাকা টাইমসকে হামলার হুমকি ও সাধারণ ডায়েরির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, উড়ো চিরকুটের ঘটনায় জিডি হয়েছে। শোভাযাত্রাকে শিরক উল্লেখ করে এটি না করার জন্য চিরকুটে হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছি।

জিডিতে ওই শিক্ষার্থী উল্লেখ করেন, মঙ্গলবার রাত পৌনে ১০টার দিকে চারুকলা অনুষদ পশ্চিম পার্শ্বের দেয়ালে রঙের কাজে তদারকিকালে একটি প্লাস্টিক চেয়ারের ওপর একটি সাদা কাগজে একটি পঞ্চাশ টাকার নোট পাই। ওই কাগজে লেখা দেখতে পাই ‘শোভাযাত্রা কাজটা শিরকের। এখানে এসে ক্ষতি করোনো তোমাদের। হামলা হতে পারে এনিটাইম। ওইদিনের দাজ্জালি বাহিনী পাবে না টের মোদের।’

পরে এ বিষয়ে আমাদের চারুকলা অনুষদের প্রক্টরিয়াল টিমের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সাধারণ ডায়েরি করলাম।

প্রতি বছর বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে আয়োজিত একটি নতুন বর্ষবরণ উৎসব মঙ্গল শোভাযাত্রা। ১৯৮০’র দশকে স্বৈরাচারী শাসনের বিরূদ্ধে সাধারণ মানুষের ঐক্য এবং একইসঙ্গে শান্তির বিজয় ও অপশক্তির অবসান কামনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউটের উদ্যোগে ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দে সর্বপ্রথম আনন্দ শোভাযাত্রার প্রবর্তন হয়। ওই বছরই ঢাকাবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয় এই আনন্দ শোভাযাত্রা। পরে ১৯৯৬ সাল থেকে আনন্দ শোভাযাত্রা মঙ্গল শোভাযাত্রা হিসেবে নাম লাভ করে। জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থা ‘ইউনেস্কো’ বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আবেদনক্রমে ২০১৬ সালের ৩০শে নভেম্বর ''মঙ্গল শোভাযাত্রা''কে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।

তবে বিশ্ব ঐতিহ্যে স্থান পেলেও মঙ্গল শেভাযাত্রা নিয়ে দেশের ইসলামপন্থি মানুষদের মধ্যে ব্যাপক আপত্তি রয়েছে। এ শোভাযাত্রা বন্ধে তারা বারবারই আহ্বান জানান। তাদের ভাষ্য, পহেলা বৈশাখ উদযাপনে মঙ্গল শোভাযাত্রা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে, যেটি ইসলামি আকিদা বিরুদ্ধ।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে মঙ্গল শোভাযাত্রা বন্ধে একটি আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন এক আইনজীবী। রেজিস্ট্রি ডাকযোগে সংস্কৃতি সচিব, ধর্ম সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, ঢাকা জেলা প্রশাসক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন বরাবর এ নোটিশ পাঠানো হয়।

এতে তিনি উল্লেখ করেছেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালি সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হাজার বছর ধরে, বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী বাঙালি জনগণ একে অপরের ধর্মকে সম্মান করে এই পহেলা বৈশাখ উদযাপন করে আসছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এই যে, ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামে একটি কৃত্রিম কার্যকলাপ বাঙালি সংস্কৃতি পহেলা বৈশাখের মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। মূলত এই কৃত্রিম উদ্ভাবিত মঙ্গল শোভাযাত্রার সঙ্গে পহেলা বৈশাখের কোনো সম্পর্ক নেই।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত