১০ জুন, ২০২৩ ১৩:৪৬
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সিরাজুল আলম খানের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১০ জুন) সকাল ১০টায় এ জানাজা সম্পন্ন হয়।
জানাজা শেষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীরা তার মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মরদেহ নোয়াখালীর গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়।
জানাজায় অংশ নেওয়া জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘আমরা তার পরিবার, তার গঠিত দল জেএসডির নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেছি, যাতে কোনো বিতর্ক না হয়, জানাজা শেষ করে এখনই আমরা নোয়াখালীর উদ্দেশে যাত্রা করব। উনার বাড়ি বেগমগঞ্জ চৌরাস্তার বাঁ পাশে। ওখানে মা ও বাবার কবরের পাশে উনাকে দাফন করা হবে।’
তিনি বলেন, সিরাজুল আলম ব্যক্তি, পরিবারের সম্পত্তি নন। তিনি দলের সম্পত্তি নন। সিরাজুল আলম ১৮ কোটি মানুষের সম্পত্তি। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি কোনো সম্পদের লোভ করেননি। বাংলাদেশ নামে একটা দেশ হবে, এটা যখন কেউ চিন্তা করেননি তখন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি নিউক্লিয়াস গঠন করেছেন।
শুক্রবার (৯ জুন) বেলা আড়াইটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সিরাজুল আলম খান।
৮২ বছর বয়সী সিরাজুল আলম খান ওরফে ‘দাদা ভাই’ উচ্চ রক্তচাপ, শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসে সংক্রমণসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।
গত ৭ মে থেকে শমরিতা হাসপাতালে চিকিৎসা চলছিল তার। পরে ২০ মে তাকে ঢাকা মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ১ জুন তাকে কেবিন থেকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে তাকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলন-সংগ্রাম পরিচালনায় তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা সিরাজুল আলম খান, আব্দুর রাজ্জাক ও কাজী আরেফ আহমেদের নেতৃত্বে ষাটের দশকের প্রথমার্ধে স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ বা স্বাধীনতার ‘নিউক্লিয়াস’ গঠিত হয়। পরে ছাত্র-তরুণদের আন্দোলন সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তারা। বঙ্গবন্ধুরও ঘনিষ্ঠ সাহচর্যে ছিলেন এই ছাত্রনেতারা।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনির সঙ্গে বিরোধের জের ধরে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ভেঙে দুই ভাগ হয়। এরপর ১৯৭২ সালে সিরাজুল আলম খানের উদ্যোগে রাজনৈতিক দল জাসদ প্রতিষ্ঠা হয়।
তিনি কখনও নেতৃত্বে না এলেও জাসদ নেতাদের পরামর্শক হিসেবে তাদের ‘তাত্ত্বিক গুরু’ হিসেবে পরিচিত। তাকে সবাই ‘দাদা ভাই’ নামেই ডাকতেন।
সিরাজুল আলম খান কখনও জনসম্মুখে আসতেন না এবং বক্তৃতা-বিবৃতি দিতেন না; আড়ালে থেকে তৎপরতা চালাতেন বলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘রহস্য পুরুষ’ হিসেবে পরিচিতি পান।
দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে কাটিয়ে আসা চিরকুমার সিরাজুল আলম খান ঢাকার কলাবাগানে ভাইদের সঙ্গেই থাকতেন।
আপনার মন্তব্য