সিলেটটুডে ডেস্ক

১৫ জুন, ২০২৩ ১৭:৫১

জামালপুরে সন্ত্রাসীদের হামলায় সাংবাদিক নিহত

সন্ত্রাসী হামলায় নিহত সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিম। ছবি-সংগৃহীত

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় সন্ত্রাসীদের হামলায় গোলাম রব্বানী নাদিম নামের এক সাংবাদিক মারা গেছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নিউজ পোর্টাল বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের জামালপুর জেলা প্রতিনিধি ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি একাত্তর টিভির বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন।

পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত ১০টার দিকে পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে বাড়ি ফিরছিলেন নাদিম। পরে সরকারি কলেজ মোড় এলাকায় তার মোটরসাইকেল গতিরোধ করে ১০-১২ জন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত করে। একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে সন্ত্রাসীরা তাকে ফেলে পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ও সাংবাদিকরা নাদিমকে উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যায়। তার অবস্থা আশংকাজনক থাকায় তাকে জামালপুর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখানেও অবস্থার কোন উন্নতি না হওয়ায় বৃহস্পতিবার সকালে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আজ দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত গোলাম রব্বানির স্ত্রী মনিরা বেগম সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিম বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবুর নারী কেলেঙ্কারি ও অনিয়ম দুর্নীতিসহ নানা খবর প্রকাশ করেন। যার ফলে ইউপি চেয়ারম্যান ওপর অসন্তুষ্ট ছিলেন। আগেও তিনি নানাভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা করেছেন।

অন্যদিকে নিহতের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন রিফাত অভিযোগ করে বলেন, বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহীনা বেগম ও সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন তালুকদার বাবুলের পরিবারের সদস্যরা স্বাধীনতা বিরোধী ছিলেন। তারা দু'জনই দেশের স্বাধীনতা বিরোধী পরিবারের সদস্য। এই বিষয়ে আমার বাবা চলতি বছরে একটি সংবাদ করেছিলেন। তারপর থেকে তাদের কাছেও নানা রকমের হুমকি পাচ্ছিলেন।

নাদিমের পরিবারের দাবি এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। বৃহস্পতিবার দুপুরে নাদিমের মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে সাংবাদিকদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। দুপুরে জামালপুর প্রেসক্লাবে নাদিম হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভা থেকে তিনদিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

পুলিশ সুপার নাছির উদ্দিন আহমেদ জানান, এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত