১৯ মে, ২০২৫ ১১:৩৮
চাকরি পুনর্বহাল, শাস্তি মওকুফ এবং আর্থিক ক্ষতিপূরণসহ বিভিন্ন দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বরে বিক্ষোভ করেছেন বরখাস্ত ও অব্যাহতিপ্রাপ্ত কয়েকজন সাবেক সেনাসদস্য। গতকাল রোববার এই কর্মসূচি পালনের সময় তারা গণমাধ্যমেও নানা বক্তব্য তুলে ধরেন।
ঘটনাস্থলে শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি প্রতিনিধি দল প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়। প্রতিনিধিরা ধৈর্য ও আন্তরিকতার সঙ্গে আন্দোলনরত সাবেক সদস্যদের বক্তব্য শোনেন এবং প্রচলিত বিধি-বিধান অনুসারে তাদের দাবিদাওয়া যাচাই ও নিষ্পত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তারা আরও পরামর্শ দেন, এসব অভিযোগ যেন কোনো তৃতীয় পক্ষ কিংবা প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে না পাঠিয়ে সরাসরি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হয়।
এর আগে গত ১৪ মে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, এ ধরনের ৮০২টি আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ১০৬টি ইতোমধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে এবং বাকি আবেদনগুলো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এসব আবেদন অত্যন্ত আন্তরিকতা ও মানবিকতার ভিত্তিতে বিবেচনা করছে সেনাবাহিনী।
তবে আজকের কর্মসূচির শেষ দিকে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা গোটা পরিস্থিতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। শান্তিপূর্ণ আলোচনার পর প্রতিনিধি দল ফিরে যাওয়ার সময় কয়েকজন উশৃঙ্খল বরখাস্ত সেনাসদস্য উস্কানি দিয়ে তাদের গাড়ির সামনে বাধা সৃষ্টি করেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়ার পাশাপাশি অশালীন স্লোগান দেওয়া হয়।
সারাদিন সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ ধৈর্য ও সহানুভূতির সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চালালেও একপর্যায়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাধ্য হয়ে কয়েকজন সাবেক সদস্যকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মনে করে, যেকোনো ধরনের উসকানিমূলক কর্মসূচি, জনস্বার্থবিরোধী আচরণ কিংবা বাহিনীর সুনাম ক্ষুণ্ণ করতে পারে—এমন কর্মকাণ্ড কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। সংবেদনশীলতা, সহমর্মিতা ও সংযম বজায় রেখে সেনাবাহিনী এই বিষয়টি বিবেচনা করছে। একইসঙ্গে, সাংবিধানিক কাঠামো ও শৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
আপনার মন্তব্য