০৫ জুন, ২০২৫ ১৩:৪১
বাজারে এসেছে ১০০০, ৫০ ও ২০ টাকার নতুন নোট। গত ১ জুন থেকে এই নোটগুলো বাজারে ছাড়া হয়। নোটের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো নোটগুলোতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি নেই। বঙ্গবন্ধুর ছবি বাদ দিয়ে নোটগুলো ডিজাইন ও ছাপানো হয়েছে।
গত বছরের ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নোট থেকে বঙ্গবন্ধুর ছবি বাদ দেওয়ার কথা জানানো হচ্ছিল, অবশেষে সেটা বাস্তবায়িত হলো।
তবে নতুন নোট বাজারে ছাড়া হলেও আগের নোটগুলোও বহাল থাকছে।
এসব নোটে রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান হাবিব মনসুরের সাক্ষর।
বাজারে প্রাথমিকভাবে ১০০০, ৫০ ও ২০ টাকার নতুন নোট আসলেও সব আলোচনা মূলত ২০ টাকার নোট নিয়ে। এই নোটে বঙ্গবন্ধু ও বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদের ছবি বাদ দেওয়া হয়েছে।
গভর্নর আহসান এইচ মনসুর স্বাক্ষরিত ২০ টাকার ব্যাংক নোটটির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ১২৭ মিমি x ৬০ মিমি। নোটটি শতভাগ সুতি কাগজে মুদ্রিত এবং নোটে জলছাপ হিসেবে থাকছে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখ। নোটটিতে থাকছে সবুজ রঙের আধিক্য।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নোটটির সামনের বাঁ বাশে ঐতিহাসিক স্থাপনা কান্তজিউ মন্দিরের ছবি। নোটের মাঝখানে ব্যাকগ্রাউন্ডে পাতা–কলিসহ প্রস্ফুটিত জাতীয় ফুল শাপলার ছবি থাকছে। নোটের পেছন ভাগে জলছাপ এলাকার ডান পাশে থাকছে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের ছবি।
নোটটিতে মোট পাঁচ ধরনের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সংযোজন করা হয়েছে। নোটটির সামনে বাঁ পাশে ২ মিমি চওড়া নিরাপত্তা সুতা সংযোজন করা হয়েছে। নোটটি নাড়াচাড়া করা হলে নিরাপত্তা সুতার রং লাল থেকে সবুজে পরিবর্তিত হয়। নোটটিতে গভর্নর স্বাক্ষরের ডান পাশে একধরনের প্যাটার্ন মুদ্রিত আছে—আলোর বিপরীতে ধরলে ‘২০’ লেখা দেখা যাবে।
এদিকে, বাজারে এই নতুন নোট আসার পর থেকেই আলোচনা শুরু হয়েছে। মসজিদের ছবি বাদ দিয়ে মন্দির ও বৌদ্দবিহারের ছবি নিয়ে অনেকেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
সামাজিক মাধ্যমে শান্ত বিশ্বাস নামের এক ব্যবহারকারী লেখেন, নতুন নোটে মন্দিরের ছবি দেওয়া সাহসী সিদ্ধান্ত। এটা উচিতও। আমাদের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম থাকলেও কোন দেশের ধর্ম থাকা উচিত নয়, আবার মুদ্রায় কেবল একটা ধর্মের প্রতীক থাকাও উচিত নয়। এখানে বৈচিত্র্য থাকতে হবে। কান্তজিউ মন্দির ও বৌদ্ধবিহার ঐতিহাসিক স্থাপনা। এসবের সংরক্ষণ এবং স্বীকৃতি জরুরি।
নতুন এই ২০ টাকার নোট নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে ধর্মভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘‘ওই নোটে মসজিদের ছবি বাদ দিয়ে মন্দির ও বৌদ্ধবিহারের ছবি সংযোজন করেছে; যা সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের আবেগ-অনুভূতির পরিপন্থী ও জাতিগত ধর্মীয় চেতনাকে উপেক্ষা করার শামিল।’’
অবিলম্বে ওই নোটের নকশা বাতিল ঘোষণা করার দাবিও জানায় হেফাজতে ইসলাম।
গত বুধবার এক বিবৃতিতে সংগঠনের আমির এবং মহাসচিব উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘সম্প্রতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নতুন মুদ্রিত বিশ টাকার নোটে মসজিদের ছবি বাদ দিয়ে মন্দির ও বৌদ্ধবিহারের ছবি সংযোজন করেছে; যা ৯২ শতাংশ মুসলমানের আবেগ-অনুভূতির পরিপন্থী ও জাতিগত ধর্মীয় চেতনাকে উপেক্ষা করার শামিল।’’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘‘একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও প্রতীকসমূহে ইসলামী সংস্কৃতি ও ধর্মীয় চেতনার প্রতিফলন থাকা অপরিহার্য। এ ধরনের সিদ্ধান্ত দেশবাসীর বিশ্বাসে আঘাত হানে এবং জাতীয় ঐক্য বিনষ্টের পথ সুগম করে।’’
‘ঈদুল আজহার উৎসবমুখর সময়ে ছেপে আসা নতুন নোটে এই নকশা দেখে যারপরনাই হতাশ এবং ব্যথিত হওয়ার কথাও জানানো হয় বিবৃতিতে।
হেফাজত বলেছে, ‘‘আমরা মনে করি, এর মাধ্যমে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় পরিচয় ও আত্মমর্যাদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থানে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর নেপথ্যে কারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে সুস্পষ্ট জবাবদিহিতা এবং জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনতে হবে।’’
অন্তর্বর্তী সরকার অনতিবিলম্বে এই নোটের নকশা বাতিল ঘোষণা করবে, এবং জরুরি ভিত্তিতে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় আবেগের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নতুন নকশা প্রণয়ন করবে বলেও বিবৃতিতে আশা করে হেফাজত।
এ বিষয়ে দেশের ইসলামী মূল্যবোধ সম্পন্ন সব রাজনৈতিক এবং অরাজনৈতিক সংগঠনকে সোচ্চার ভূমিকা পালনের আহ্বানও জানিয়েছে ধর্মভিত্তিক সংগঠনটি।
আপনার মন্তব্য