সিলেটটুডে ডেস্ক

০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:২৪

হাসিনা-জয়ের অনুষ্ঠান রুখতে দিল্লিকে ঢাকার চাপ: এফসিসিতে ৭.৫ হাজার আবেদন

অনুষ্ঠানে সুযোগ পাচ্ছেন সাড়ে ৩শ, থাকবেন না দলীয় নেতাকর্মী

ভারতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রথম যৌথ ‘ভার্চুয়াল’ মতবিনিময় সভা রুখতে দিল্লিকে কড়া বার্তা দিয়েছে ঢাকা। ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া বন্ধে কূটনৈতিক চাপ জোরদার করা হলেও নয়া দিল্লির ‘ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া’ (এফসিসি)-র এই অনুষ্ঠান ঘিরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, অনলাইন নিবন্ধনে সাড়ে সাত হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়লেও অনুষ্ঠানে সরাসরি প্রবেশের অনুমতি পাচ্ছেন মাত্র সাড়ে তিনশ প্রতিনিধি।

ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের কেউ যাতে রাজনৈতিক কোনো বক্তব্য দিতে না পারেন, সেজন্য কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। এরই অংশ হিসেবে ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠক হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে সরকার চায় যে-কোনো মূল্যে অনুষ্ঠানটি বন্ধ করা হোক। গতকাল সোমবার বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ভারতীয় হাইকমিশনার বিষয়টিকে যথাযথভাবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়া এবং এ বিষয়ে সচেষ্ট থাকার আশ্বাস দেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আন্দোলনের মুখে সরকার পতনের পর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে এই প্রথমবার ‘ভার্চুয়ালি’ প্রকাশ্যে কোনো অনুষ্ঠানে আসছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে বিভিন্ন সময়ে অডিও বার্তা দিলেও এই প্রথম পুত্রকে নিয়ে তিনি একমঞ্চে হাজির হচ্ছেন। আগামী বুধবার (৫ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি চলার কথা রয়েছে এবং এটি এফসিসি ক্লাবের সামাজিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মগুলোতে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

এদিকে বাংলাদেশ সরকার যখন অনুষ্ঠান বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছে, অন্যদিকে আয়োজক সংগঠন ‘এফসিসি সাউথ এশিয়া’-র পক্ষ থেকে চলছে সর্বাত্মক প্রস্তুতি। নয়া দিল্লির মথুরা রোডের ‘স্যার মার্ক টালি অডিটোরিয়ামে’ এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে সাড়ে তিনশ মনোনীত অতিথির কাছে ইমেইলে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে। তবে অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের বাইরে ভারতে থাকা কোনো আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে সরাসরি অংশ নিতে দেওয়া হচ্ছে না।

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করবেন এফসিসি সাউথ এশিয়া এবং ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব প্রেস ক্লাব (আইএপিসি)-র সভাপতি ওয়ায়েল আউয়াদ। ভারতে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টদের অনুষ্ঠান প্রশ্নে তিনি জানান, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তার ওপর কোনো চাপ নেই।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’-র তথ্যমতে, এ মতবিনিময় সভার আমন্ত্রণপত্রে সভার আলোচকদের তালিকায় শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, তারকা ক্রিকেটার ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর জেনারেল সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, সাবেক কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক আমিনুল হক পলাশ, লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবু ওবায়দা অরিন এবং বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ইউএসএ-র ডিরেক্টর অ্যাডভোকেট শাহ মো. বখতিয়ারের নাম রয়েছে।

জানা গেছে, শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয়, সাকিব আল হাসান এবং আমিনুল হক পলাশ থাকবেন ভার্চুয়ালি, আর বাকিদের সরাসরি উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শেখ হাসিনা অডিও নাকি ভিডিওর মাধ্যমে যুক্ত হবেন এবং প্রশ্নের উত্তর তিনি নিজে দেবেন নাকি জয় দেবেন— তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানায়, শেখ হাসিনা পুরো অনুষ্ঠান জুড়েই থাকবেন এবং প্রয়োজন হলে কথা বলবেন; তবে তিনি কী বলবেন বা কীভাবে বলবেন, তা পরিস্থিতি ও প্রশ্নের ধরনের ওপর নির্ভর করছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের মুখে ৫ আগস্ট ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। এরপর থেকে তিনি দিল্লিতে অবস্থান করছেন। সম্প্রতি গত ৯ জুলাই বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামী ডিসেম্বর নাগাদ তিনি দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন। তবে বাংলাদেশ সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) চিফ প্রসেকিউটর আমিনুল ইসলাম স্পষ্ট জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার এভাবে নিজে এসে আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই; তাঁকে গ্রেপ্তার করেই দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। সরকার এনিয়ে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে; ভারত বলছে তারা বিষয়টি পরীক্ষানিরীক্ষা করে দেখছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত