০৯ জুন, ২০২৫ ১৫:২১
সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের দেশত্যাগের পর এর জের ধরে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ, নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন স্থগিত, এবং তাকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফেরত আনার কথা, দেশত্যাগের সময়ে দায়িত্বশীলদের অবহেলা, উপদেষ্টাদের সমন্বয়ে কমিটি গঠনের পর এবার তিনি ফিরে এলেন যথারীতি। চিকিৎসার জন্যে ব্যাংককে যাওয়ার পর যে উত্তাপ ছড়িয়েছিল রাজনীতিতে সেটা ফিরে আসার পর নেই। উপরন্তু স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলছেন, নির্দোষকে কেন শাস্তি দেব?
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, অপরাধের প্রমাণ পেলে তখন আইনের আওতায় নেওয়া হবে।
সোমবার ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আপনারাই বলছেন যে অনেক মামলাগুলি আছে, কিছু কিছু মামলাগুলি ইনভেস্টিগেশন হয় নাই। ইনভেস্টিগেশন হওয়ার পরে যে দোষী হবে তারে আইনের আওতায় নেওয়া হবে।”
গত ৭ মে গভীর রাতে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেন সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় কিশোরগঞ্জের এক মামলার আসামি হয়েও তিনি কীভাবে দেশত্যাগ করলেন তা নিয়ে তখন প্রশ্ন তোলেন অনেকে।
এরপর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপারসহ চার পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে তিন সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়।
এ নিয়ে আলোচনার মধ্যে জাতীয় নাগরিক কমিটি-এনসিপিসহ কয়েকটি দলের দাবির মুখে গত মাসে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়; একইসঙ্গে স্থগিত করা হয় দলটির নিবন্ধন।
আবদুল হামিদের চিকিৎসার জন্যে ব্যাংককে যাওয়ার পরের দিন নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দর সড়কে একদল উশৃঙ্খল শিক্ষার্থী স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পথ আটকে ফেললে তিনি নিজেও মর্মহাত উল্লেখ করে তাদেরকে বলেছিলেন, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতির দেশত্যাগের ঘটনায় জড়িত ও সহায়তাকারীদের শাস্তির আওতায় আনা হবে। ইতিমধ্যে জড়িত ব্যক্তিদের বরখাস্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আবদুল হামিদের দেশত্যাগের ঘটনায় একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। তাঁকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
থাইল্যান্ডে চিকিৎসা নিয়ে এক মাস পর রোববার রাতে দেশে ফেরেন আবদুল হামিদ। সকালেই আবদুল হামিদের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম।
তিনি বলেন, “আপনারাই কিন্তু সবসময় বলছেন, নির্দোষরা যেন কোনো অবস্থায় সাজা না পায়। এজন্য আমাদের ইনভেস্টিগেশনটা করতে দেন। ইনভেস্টিগেশন করার পর, যেই দোষী হোক না কেন কাউরে আইনের বাইরে রাখা হবে না। তারে আমরা অবশ্যই আইনের আওতায় নিয়ে আসব।”
এ সময় সাংবাদিকদের উপদেষ্টা বলেন, “আপনারাইতো রিকোয়েস্ট করছেন, বলেন আপনারা বলেন নাই? আপনারাই বলছেন আপনাদের কথাইতো আমি রাখতাছি। যে তারা ওইভাবে প্রমাণিত না হইলে…তারে আমি কেন? একটা নির্দোষ লোকরে কেন আমি সাজা দেব? দোষী যে হবে তারে আমরা শাস্তি দেব।”
হামিদের দেশত্যাগের কারণে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে উপদেষ্টা বলেন, “উপদেষ্টাদের তিনজনের কমিটি হইছে, উনাদের একটা রেকমন্ডেশন দিছে। ওই রেকমন্ডেশনটা পাওয়ার পরে যদি দোষী হয়, ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদি দোষী না হয়, আবার যার যার জায়গায় ফেরত আসবে।”
আপনার মন্তব্য