২৮ জুন, ২০২৫ ০২:১২
ছবি: আইএসপিআর-এর ওয়েবসাইট
মহান ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধিকার-স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবাহী ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’-এর নির্মাণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণ ছিল, সেই স্থাপনার অবশিষ্টাংশ ভেঙে ফেলেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।
এই ভাস্কর্যের জায়গায় গড়ে তোলা হবে ‘জুলাই শহিদদের স্মরণে ভাস্কর্য ও উন্মুক্ত স্থান’। ডিএনসিসির উদ্যোগে এই কাজ পরিচালিত হবে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এজাজ মোহাম্মদ বলেছেন, ‘জুলাই আন্দোলন ও স্বাধীনতাকে বিবেচনায় রেখেই ভাস্কর্য তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
এজাজ বলেন, ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলায় সেটি ‘অগোছালো’ অবস্থায় ছিল। এ কারণে ওই স্থানটি ‘পরিষ্কার’ করা হয়েছে। মূল ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। সেদিনের আক্রমণের কারণে বাকি যেগুলো ছিল সেগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। এটা এভাবে ফেলে রেখে কোনো লাভ নাই। সেখানে নতুন কিছু যদি করা যায়। সেজন্য আমরা আগে সেখানে জায়গাটা পরিষ্কার করছি।
তিনি বলেন, জুলাই, বিজয়, বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাস সবগুলোকে মিলিয়েই কিছু একটা হবে। এখানে যেমন স্কাল্পচার ছিল সেমনই আরেকটা স্কাল্পচার হবে। আমরা এই জুলাই মাসের মধ্যেই কাজটা করব। কারণ পরিষ্কার করে ফেলে রাখলে লোকজন আবার বলবে, ফেলে রেখে দিয়েছে। মানুষজন রাস্তা দিয়ে আসে যায়, তাদেরও প্রশ্ন এখানে কী হবে তাহলে।
২০২৩ সালের ১০ নভেম্বর রাজধানীর বিজয় সরণিতে স্থাপিত ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’-এর উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সমগ্র শিল্পকর্মটির মধ্যমণি হয়ে দণ্ডায়মান ছিল বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যটি।
বঙ্গবন্ধুর এই ভাস্কর্যটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নির্মাণ করা হয় এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বিজয় দিবস প্যারেডে প্রদর্শিত হয়। প্রধানমন্ত্রী ভাস্কর্যটির ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সেনাবাহিনী প্রধানকে ভাস্কর্যটি বিজয় সরণিতে স্থাপনের নির্দেশনা দেন। এ প্রেক্ষিতে, সেনাবাহিনী প্রধানের পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনায় ৫ মাসে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যটি বিজয় সরণিতে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণে’ স্থাপিত হয়েছিল।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর-আইএসপিআর এর ওয়েবসাইটে ১০ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য সেনাবাহিনী কর্তৃক স্থাপনের তথ্য পাওয়া যায়।
এতে বলা হয়, ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’ স্বাধীনতাকামী জনগণের হৃদস্পন্দন ও স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেরণা। স্থাপত্যটির সাতটি প্রাচীর আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের আলোকিত ৭টি আন্দোলন তথা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র আন্দোলন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রতিচ্ছবি। এছাড়াও সাতটি প্রাচীর দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশকে নির্দেশ করে। পাশাপাশি ক্রম উর্ধ্বগামী ৭টি প্রাচীর জাতির পিতার স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ গড়ার প্রত্যয়ে তাঁর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের ক্রমবর্ধমান উন্নয়নকে নির্দেশ করে। উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ও বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস সমৃদ্ধ ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’ সকলকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করবে এবং নতুন প্রজন্মকে বাঙালির সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন করবে।
আপনার মন্তব্য