সিলেটটুডে ডেস্ক

২৬ আগস্ট, ২০২৫ ১৪:১৫

বাকযুদ্ধে রুমিন ফারহানা-হাসনাত আবদুল্লাহ

নির্বাচন কমিশনে ধস্তধস্তির ঘটনাকে ঘিরে বথার লড়াইয়ে নেমেছেন বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানা ও নসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। দুজনই একে অপরকে আকমণ করে মন্তব্য করেছেন। এতে রাজনীতিতে উত্তাপ দেখা দিয়েছে।

বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানাকে 'বিএনপির আওয়ামী লীগ বিষয়ক সম্পাদক' আখ্যা দিয়ে রোববার বক্তব্য দেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

হাসনাত বলেন, 'হাসিনা বলতো ২০টা হুন্ডা ১০টা গুন্ডা নির্বাচন ঠান্ডা। আজ রুমিন ফারহানা, যিনি হাসিনার কাছে ফ্ল্যাটের জন্য আবেদন করেছিলেন, হাসিনার পতনে আমার মনে হয় তিনিই সবচেয়ে বেশি কষ্ট পেয়েছেন।'

হাসনাত আরও বলেন, 'আওয়ামী লীগ থেকেও বেশি আওয়ামী লীগ পণ্য যাদের মনে হয়, তাদের মধ্যে রুমিন ফারহানা অন্যতম। উনি সবসময় বলে থাকেন, বিগত ১৫ বছর নাকি উনি অনেক ভালো ছিলেন। উনি অবশ্যই ভালো থাকবেন। কারণ, উনি যত ধরনের আওয়ামী সুবিধা রয়েছে, সব ধরনের সুবিধা নিয়েছেন।'

হাসনাতের ওই বক্তব্যের জবাবে সোমবার (২৫ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান রুমিন ফারহানা। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ‍সন্ধ্যায় এক পোস্টে তিনি লেখেন, 'এটা ওই ফকিন্নির বাচ্চাটা না, যে আমাকে আওয়ামী লীগ বিষয়ক সম্পাদক বলেছে?'

পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহর ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্টতা তুলে ধরে কিছু ছবি ও স্ক্রিনশটও যুক্ত করেন তিনি। একতি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, হাসনাত দাঁড়িয়ে আছেন 'সেই-তো ধন্য যে ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের গর্বিত কর্মী হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন' লেখা দেয়াললিখনের সামনে।

একই পোস্টে ২০২০ সালের ১৮ মার্চ দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে হাসনাতের লেখা, ২০২০ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে তার দেওয়া পোস্ট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামানের সঙ্গে হাসনাতের একটি ছবি প্রকাশ করেছেন।

এছাড়া, ২০২২ সালের ৩১ জুলাই হাসনাতকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহ-সম্পাদক পদে মনোনয়নের চিঠি দেওয়ার দাবির সঙ্গে আরেকটি ছবি পোস্টে যুক্ত করেছেন রুমিন।

রোববার নির্বাচন ভবনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২ ও ৩ আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের শুনানির সময় বিএনপি ও এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে হট্টগোল দেখা দেয়। এই সময় দুই পক্ষ হাতাহাতিতে জড়ায়।

শুনানিতে বিএনপির রুমিন ফারহানা ইসির খসড়ার পক্ষে যুক্তি দেন। পরে এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মোহাম্মদ আতাউল্লাহ খসড়ার বিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপনের সময় দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়।

পরে সংবাদ সম্মেলনে রুমিন ফারহানাকে বিএনপির আওয়ামী লীগ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করে বক্তব্য দেন এনসিপির নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ। রুমিনকে গত সরকারের 'সুবিধাভোগী' বলে অভিহিত করেন তিনি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত