সিলেটটুডে ডেস্ক

০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৬:৪৯

আওয়ামী লীগের সাথে সম্পর্ক নেই, তবে শেখ মুজিবকে ভালোবাসি: কাদের সিদ্দিকী

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, তিনি আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের জন্য কাজ করছেন না। প্রায় ২৬ বছর আগে আওয়ামী লীগ থেকে বের হয়ে তিনি নিজেই কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ প্রতিষ্ঠা করেছেন।

শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার রাজনৈতিক কোনো সম্পর্ক নেই বলেও জানান তিনি। তবে শেখ মুজিবুর রহমান ও বাংলাদেশের জনগণকে ভালোবাসেন এবং সম্মান করেন।

রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের নিজ বাসভবন সোনার বাংলায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কাদের সিদ্দিকী আরও বলেন, ‘আমার বাড়ি ভেঙেছে আরও ভাঙুক। বঙ্গবন্ধুর ৩২-এর বাড়িতে গিয়েছিলাম, আমার গাড়ি ভেঙেছিল। আরও ভেঙে যদি দেশে শান্তি স্থাপিত হয়, দেশের কল্যাণ হয়, আমি সব সময় রাজি আছি। তবে আমার মতো মানুষের, যাকে রাষ্ট্র সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব দিয়েছে, তার বাড়ি যদি নিরাপদ না থাকে, আমার সাধারণ গরিব–দুঃখী মানুষের বাড়ি নিরাপদ কীভাবে হয়।’

তিনি বলেন, ‘‘এ ঘটনায় আমি কোনো দল বা নেতাকর্মীকে দোষারোপ করছি না। তবে মামলা করা হবে।"

তিনি জানান, বিকেলে তিনি বাসাইল উপজেলার পূর্বঘোষিত মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে অংশ নেবেন।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘কয়েক দিন আগে মঞ্চ ৭১–এর সভায় আমাদের নেতা, আমার বড় ভাই লতিফ সিদ্দিকী আলোচক হিসেবে গিয়েছিলেন। তাঁদের সব আলোচককে গ্রেপ্তার করেছে। যাঁরা শ্রোতা হিসেবে গিয়েছিলেন, তাঁদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু যাঁরা মব সৃষ্টি করেছেন, যাঁরা বাধা দিয়েছেন, তাঁদের কিছু বলা হয়নি। এটা একটা ন্যায়নীতির ব্যত্যয়, আইনের ব্যত্যয়। এখান থেকে আমি সরকারকে সরে আসতে বলব। আমার বাড়ির ওপর হামলার মধ্য দিয়েই এই চোরাগোপ্তা হামলা বন্ধ করা হোক। এটা সরকারের কাছে আমার নিবেদন। দেশবাসীর কাছে আমার নিবেদন যে আপনারা জাগ্রত হোন, রুখে দাঁড়ান। এ রকম অন্যায়কে সহ্য করলে পরবর্তী বংশধরদের জীবন–সম্পদ–সম্মান—সব হুমকির মধ্যে পড়বে।’

সংবাদ সম্মেলনে তার ছোট ভাই শামীম আল মনসুর আজাদ সিদ্দিকীসহ মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, শনিবার রাত একটার দিকে টাঙ্গাইল শহরের জেলা সদর সড়কে অবস্থিত কাদের সিদ্দিকীর বাসভবন সোনার বাংলায় হামলা চালায় ১০-১৫ জন দুর্বৃত্ত। তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে জানালার কাঁচ ভাঙচুর করে এবং মই বেয়ে ভেতরে প্রবেশ করে দুটি গাড়ি ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করে।

বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু মিয়া জানান, তখন কাদের সিদ্দিকী দ্বিতীয় তলায় ঘুমিয়ে ছিলেন। দুর্বৃত্তরা হামলা চালালে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যায়।

এদিকে, বাসাইলে কাদেরিয়া বাহিনী ও ছাত্র সমাবেশের ব্যানারে একই স্থানে পৃথক সমাবেশকে কেন্দ্র করে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। শনিবার রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. আকলিমা বেগম এ আদেশ জারি করেন। রোববার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত এ আদেশ কার্যকর থাকবে।

কাদের সিদ্দিকীর বাড়িতে হামলার ঘটনায় টাঙ্গাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ বলেন, "পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। দ্রুতই জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।"

আপনার মন্তব্য

আলোচিত