নিজস্ব প্রতিবেদক

০৯ ফেব্রুয়ারি , ২০১৬ ২৩:৫৮

হুমকির মুখে দেশ ছেড়েছেন ব্লগার এমএস নিলয়

উগ্র ধর্মীয় গোষ্ঠীর হুমকির মুখে দেশ ছেড়েছেন ব্লগার এমএস নিলয়। যিনি বেশ কিছুদিন থেকে "মুক্তমনা", "আমারব্লগ" সহ কয়েকটি কমিউনিটি ব্লগিং প্লাটফর্মে লেখালেখি করতেন। নিলয় নিজেই তাঁর দেশত্যাগের খবরটি নিশ্চিত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোষ্ট করেছেন।

মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় করা পোষ্টে তিনি লিখেছেন, "এভাবে বিদেশ চলে আসতে আমি চাইনি; বিদায় বাংলাদেশ; বেঁচে থাকলে দেখা হবে। সুস্থ শরীরে এখানে পৌঁছেছি; আবার কবে দেখা হবে জানা নেই। আর কিছু লিখতে পারছি না; চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে।"
 
সম্প্রতি "ফেব্রুয়ারিতে জঙ্গি নিশানায় ৪ ব্লগার" শিরোনামে দৈনিক যুগান্তরের একটি প্রতিবেদনে বলা হয় "নিষিদ্ধ উগ্রপন্থী সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) হিটলিস্টে আছেন চার ব্লগার। পারভেজ আলম, এমএস নিলয়, নুরুন্নবী ও অনন্য আজাদ নামের চারজনকে ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতেই হত্যার পরিকল্পনা করেছে জঙ্গিরা।"
 
অনন্য আজাদ বেশ কিছুদিন থেকেই ইউরোপে রয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে নুর নবী দুলালও দেশের বাইরে আছেন। যুগান্তরের প্রতিবেদনে উল্লেখ্য করা হয় আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের পরিকল্পনা আঁচ করতে পেরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উক্ত ব্লগারদের সতর্ক করে দিয়েছে। নিলয়ের দেশের বাইরে যাওয়ার মধ্যে দিয়ে শঙ্কার মুখে থাকা এই চারজনই বর্তমানে দেশে নেই।


গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি একুশে বইমেলায় বিজ্ঞান লেখক ও মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ রায়কে কুপিয়ে হত্যার পর ধারাবাহিকভাবে হত্যা করা হয় ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান বাবু (৩০ মার্চ ), অনন্ত বিজয় দাশ (১২ মে) , নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় (৭ আগস্ট)  এবং সর্বশেষ গত ৩১ অক্টোবর বিকেলে জাগৃতি প্রকাশনার সত্ত্বাধিকারী ফয়সাল আরেফিন দীপনকে তাঁর কার্যালয়েই কুপিয়ে হত্যা করা হয়। একই দিনে শুদ্ধস্বরের সত্ত্বাধিকারী আহমেদুর রশিদ টুটুলকেও তাঁর কার্যালয়ে হামলা করা হলে গুরুতর আহত অবস্থায় টুটুল ও তাঁর দুই বন্ধু লেখক রণদীপম বসু, কবি তারেক রহিমকে উদ্ধার করা হয়। এর আগে ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি গণজাগরণ আন্দোলন চলাকালীন ব্লগার রাজীব হায়দারকেও একই কায়দায় হত্যা করা হয়েছিল।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত