সিলেটটুডে ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৪:৪৮

চলে গেলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান বীর সেনানী এ কে খন্দকার বীর উত্তম

ছবি: সংগৃহীত

বিজয়ের মাস ডিসেম্বরেই চলে গেলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান বীর সেনানী এ কে খন্দকার বীর উত্তম।

আজ শনিবার সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে বার্ধক্যের কারণে তিনি প্রাণ ত্যাগ করেন ।(ইন্না লিল্লাহ ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) বলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর।

মুক্তিবাহিনীর উপপ্রধান (ডেপুটি চিফ অব স্টাফ) এ কে খন্দকার বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রথম প্রধান ছিলেন। সাবেক এই এয়ার ভাইস মার্শাল পরে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে দুই দফায় মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।

এ কে খন্দকার ১৯৩০ সালে বাবার কর্মস্থল রংপুরে জন্মগ্রহন করেন। তাঁর পূর্ব পুরুষদের নিবাস পাবনা জেলার বেড়া উপজেলার পুরান ভারেঙ্গা গ্রামে। তিনি ১৯৪৭ সালে ম্যাট্রিকুলেশন ও ১৯৪৯ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন । তিনি ১৯৫২ সালে পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন । বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি গ্রুপ ক্যাপ্টেন হিসেবে যোগ দেন এবং ডেপুটি চিফ অব স্টাফ নিযুক্ত হন।

মুক্তিযুদ্ধের অব্যবহিত আগে পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর দ্বিতীয় প্রধান ছিলেন তিনি। সেখান থেকে বেরিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেন।

১৯৭১ সালে ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনাদের আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক মুহূর্তে মুক্তিবাহিনীর প্রতিনিধি হিসেবে তিনিও উপস্থিত ছিলেন। স্বাধীনতার পর তিনি প্রথম বিমানবাহিনী প্রধান হিসাবে নিযুক্ত হন এবং তাঁর নেতৃত্বে যুদ্ধবিধ্বস্ত বিমানবাহিনী পুনর্গঠিত হয়। তিনি ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বিমানবাহিনীর প্রধান ছিলেন।

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য এ কে খন্দকার ১৯৭৩ সালে ‘বীর উত্তম’ খেতাব এবং ২০১১ সালে ‘স্বাধীনতা” পদক লাভ করেন। তিনি সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।

এ কে খন্দকার এইচ এম এরশাদের সরকারের আমলে প্রথম মন্ত্রী হয়েছিলেন । পরে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ থেকে সাংসদ হওয়ার পর পুনরায় মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

‘১৯৭১: ভেতরে বাইরে’ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের আলোচিত একটি গ্রন্থ্ও লিখেছেন তিনি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত