সিলেটটুডে ডেস্ক

০১ জুন, ২০২৬ ২৩:১৮

সিলেটে ডা. শফিক, যাবেন খুন হওয়া শিশু ফাহিমার বাড়িতে

সিলেটে ধর্ষণের পর হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু ফাহিমার বাড়িতে যাবেন সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় সিলেট সদর উপজেলার সোনাতলা গ্রামে ফাহিমাদের বাড়িতে যাবেন।

তিনি সোমবার রাত ৯টায় ইউএস বাংলার একটি ফ্লাইটে সিলেটে আসেন।

সেখান থেকে রাত ১০টায় নগরীর সোবহানীঘাটস্থ সিলেট ইবনে সিনা হাসপাতালে প্রবীন জামায়াত নেতা সাবেক এমপি অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে দেখতে যান তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল সাড়ে ৯টায় নগরীর একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত সভায় যোগদান করবেন। এছাড়া তিনি সকাল ১১টায় সিলেট সদর উপজেলার সোনাতলায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু ফাহিমার বাড়িতে যাবেন, বেলা ১২টায় সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময়, বিকেল ৫টায় শাহী ঈদগাহস্থ জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে জামায়াত আয়োজিত সুধী সমাবেশে যোগদান এবং সন্ধ্যা ৭টায় নগরীর বন্দরবাজারস্থ জামায়াত কার্যালয়ে জেলা ও মহানগর জামায়াত নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভায় যোগদান করবেন।

এরপর তিনি রাত ১০টায় ইউএস বাংলার একটি ফ্লাইটে ওসমানী বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবেন।

প্রসঙ্গত, গত ৬ মে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় শিশু ফাহিমা। এর দুদিন পর ৮ মে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে ফাহিমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর ১১ মে রাতে ফাহিমাকে হত্যার অভিযোগে তার প্রতিবেশী চাচা জাকির হোসেনকে (৩০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে ও আদালতে ১৬৪ ধারায় এই ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন জাকির।

ত ১২ মে জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর সংবাদ সম্মেলনে সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ৬ মে সকালে ফাহিমাকে একটি দোকান থেকে সিগারেট এনে দিতে পাঠানো হয়। শিশুটি সিগারেট এনে দেওয়ার পর তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেয় জাকির। ওই সময় তার স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না। ঘরের দরজা বন্ধ করে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে সে। তবে ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছিল কি না, তা মেডিকেল রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশের দাবি, একপর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ প্রথমে ঘরের ভেতরে একটি ব্রিফকেসে লুকিয়ে রাখা হয়। এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু হলে পরে সেটি সরিয়ে বাড়ির নিচে রাখা হয়। সেখান থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে গভীর রাতে পাশের একটি ডোবায় মরদেহ ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে মরদেহ পানিতে না ডোবায় পাশেই রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত জাকির।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, অভিযুক্তের দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাদর ও ব্রিফকেস উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব আলামত জব্দ করে তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত