নিজস্ব প্রতিবেদক

২৩ ফেব্রুয়ারি , ২০২৬ ২৩:৩৭

৬ মাসের জন্য ২২ দফা কর্মসূচি গ্রহণ করল শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়

সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার, ২০২৬ বাস্তবায়নে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কর্তৃক ১৮০ দিনের মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য কর্মপন্থা নির্ধারণে কর্মশালা সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব ড.মোঃ সানোয়ার জাহান ভূইয়া'র সভাপতিত্বে নির্বাচনী ইশতেহার, ২০২৬ বাস্তবায়নে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ বিষয়ক এ কর্মশালায় প্রধান অতিথি'র বক্তৃতায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ইশতেহার বাস্তবায়নের জন্য যে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে তার বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রতি সপ্তাহে উপস্থাপন করতে হবে। ইশতেহার বাস্তবায়নের সাথে সম্পৃক্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ইশতেহারের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ফলোআপ করতে হবে। কর্মশালায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কর্তৃক ১৮০ দিনের মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য ২২ টি দফা উপস্থাপন করা হয়।

বাংলাদেশ সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় বর্তমান বিএনপি দলীয় সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের আওতায় শ্রম আইন সংস্কার ও আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শ্রম অধ্যাদেশ, ২০২৫ আইনে রূপান্তরের সময়সীমা ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখ নির্ধারণ করা হয়। বাংলাদেশ শ্রম আইনের আলোকে শ্রম বিধিমালা প্রণয়ন, শিশুশ্রম ও জবরদস্তিমূলক শ্রম বন্ধকরণ আইন প্রণয়ন আগামী ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে বলে কর্মশালায় জানানো হয়।

কর্মশালায় বিএনপি দলীয় সরকারের ইশতেহারে বর্ণিত ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ সভা গঠন এর আওতায় National Social Dialogue forum এর কার্যক্রম ৩০ জুনের মধ্যে চালুকরণের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি এমপ্লয়মেন্ট একচেঞ্জ চালুকরণের ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান অধিদপ্তর গঠনের সময়সীমা ৩০ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়

ইশতেহারের কর্মসংস্থান ক্রমিকের আওতায় জাতীয় কর্মসংস্থান নীতিমালা ২০২২ এর আলোকে জাতীয় কর্মসংস্থান কৌশলপত্র প্রণয়ন ও নীতিমালায় বর্ণিত বিভিন্ন কমিটি গঠন আগামী ৩০ জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে বলে কর্মশালায় জানানো হয়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সহযোগিতায় হালনাগাদ কর্মসংস্থান জরিপ সম্পন্নকরণের কাজ ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে সম্পন্ন করার সময়সীমা ধরা হয়।

৩১ মার্চের মধ্যে BPSC হতে সুপারিশকৃত কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের ১২২ জন কর্মচারীর নিয়োগ সমাপ্তকরণ করা হবে বলে কর্মশালায় জানানো হয় যাহা কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শক অধিদপ্তর বাস্তবায়ন করবে।

আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ১৩ থেকে ২০ গ্রেডের বিভিন্ন পদে চূড়ান্ত ফলাফলের ভিত্তিতে ২৭ জন কর্মচারী নিয়োগ সম্পন্নকরণ করা হবে বলে কর্মশালায় উপস্থাপন করা হয়। আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের বিভিন্ন ক্যাটাগরির শূন্য পদে নিয়োগ সম্পন্নকরণের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়।

শ্রম অধিদপ্তরের বিভিন্ন ক্যাটাগরির ৬৯ টি শূন্য পদে নিয়োগ সম্পন্ন করনের সময়সীমা ১৫ মে নির্ধারণ করা হয়। নিম্নতম মুজুরীবোর্ড কর্তৃক ০২টি শূন্য পদ পূরণ ১৫ মের মধ্যে সম্পন্নকরণের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। আগামী ৩০ শে মের মধ্যে ন্যায্য মুজুরী নিশ্চিতকরণের আওতায় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত ৬৫ টি অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের মধ্য হতে উপযুক্ত প্রতিষ্ঠানিক খ্যাত নির্ধারণকরা হবে যাও বাস্তবায়ন করবে নিম্মতম মজুরি বোর্ড ও শ্রম অনুবিভাগ।

হোটেল ও রেস্টুরেন্টগুলোতে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নের সময়সীমা ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয় যার বাস্তবায়নকারী সংস্থা হচ্ছে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর। নিম্নতম মুজুরী বোর্ড কর্তৃক আগামী ৩০ জুনের মধ্যে ট্যানারি, হোটেল ও আয়রন ফাউন্ড্রি খাতসমূহের ক্ষেত্রে নূন্যতম মজুরি ঘোষণা ও বাস্তবায়ন করার বিষয়টি কর্মশালায় উপস্থাপন করা হয়।

বিএনপি দলীয় সরকারের ইশতেহারে ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার ক্রমিকে - ডিজিটাল সিস্টেমের মাধ্যমে ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন সহজীকরণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের সময়সীমা ১৫ই জুলাই নির্ধারণ করা হয় যা বাস্তবায়ন করবে শ্রম অধিদপ্তর।

ইশতেহারের ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ ক্রমিকে -পুরাতন মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিকরণে এডিআর ব্যবস্থা চালুকরণের সময়সীমা ৩০ জুন নির্ধারণ করা হয় যা বাস্তবায়ন করবে সময় আদালত কর্তৃপক্ষ। শ্রম অধিদপ্তর কর্তৃক শ্রমিকদের বিশেষত কর্মজীবী নারীদের সুরক্ষায় কালুরঘাটে ও নারায়ণগঞ্জে কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল চালু করণের ৩০ জুন নির্ধারণ করা হয়।

আরএমজি সেক্টরের শতভাগ কারখানায় যৌন হয়রানি নিরসনকল্পে Anti Harassment Committee ৩০ জুনের মধ্যে শ্রম অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানানো হয়। কেন্দ্রীয় তহবিল ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কর্তৃক ন্যূনতম ৩০০ টি কোম্পানিকে WPPF - এর আওতায় আনার সময়সীমা ৩০ জুন নির্ধারণ করা হয়।

সামাজিক সুরক্ষার আওতায় শ্রমিকদের আর্থিক সহায়তা প্রদানঃ কেন্দ্রীয় তহবিল-জন বিএলডাব্লিউএফ - জন; ইউডাব্লিউপিপি- জন; ইআইএস -জন ৩১ আগস্টের মধ্যে কেন্দ্রীয় তহবিল ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন কর্তৃক বাস্তবায়ন করা হবে বলে উপস্থাপন করা হয়।

সবেতনে ৬ মাস মাতৃত্বকালীন ছুটি এর ক্ষেত্রে বাস্তবতা বিবেচনায় ৪ মাস মাতৃত্বকালীন ছুটি অতিক্রান্ত হওয়ার পর ২ মাসের ছুটিবিহীন ভাতা প্রদানের ব্যবস্থাকরণের বিষয়টি ৩০ জুনের মধ্যে কেন্দ্রীয় তহবিল ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনকর্তৃক বাস্তবায়ন করা হবে কর্মশালায় উপস্থাপন করা হয়। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কর্তৃক ১৮০ দিনের মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য ২২ দফার উপর আরও বক্তব্য রাখেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মোঃ নুরুল হক।

কর্মশালায় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর / সংস্থার কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত