১৩ মার্চ, ২০২৬ ১৪:৪০
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাহিদ খান পাভেলকে ছাত্রলীগ সন্দেহে মেরে থানার সামনে ফেলে রাখার অভিযোগে অভিযুক্ত মো. সাইফুল্লাহর গ্রামের বাড়িতে আগুনের ঘটনা ঘটেছে।
সাইফুল্লাহ বাংলাদেশ নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি ময়মনসিংহের ধোবাউড়ার ডোমঘাটা গ্রামের আলী হোসেন ব্যাপারীর ছেলে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) ভোররাতে ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া উপজেলা ডোমঘাটা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রশক্তির সংগঠক আলী হোসেন বলেন, ভোররাতে সাইফুল্লাহ’র বাড়িতে আগুন লাগার খবর পেয়ে সকালে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তার বাড়িতে লাকড়ির ঘরে দুর্বৃত্তরা আগুন ধরিয়ে দেয়। যাতে করে পুরো বাড়িতে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু আগুন লাগার বিষয়টি সাথে সাথে টের পাওয়ায় প্রতিবেশীদের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দুর্বৃত্তরা শুধু বাড়িতে আগুন দেয়নি। সাইফুল্লাহ'র বসত ঘরে কুপিয়ে এক পাশের বেড়া ভেঙে ফেলেছে। আমরা এই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুল্লাহ বলেন, গতকাল রাত ৩টা ১০ মিনিটের দিকে আমার বাড়ির একটি রান্নাঘরে আগুন দেওয়া হয় এবং বসতঘরে কুপিয়ে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বসতঘরের আগুন বড় হয়নি, নিভিয়ে ফেলা হয়।
তিনি আরও বলেন, অনেক আগে থেকেই ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগ নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছে, ইদানীং হুমকি বেশি ছিল। কিন্তু এলাকায় এ কাজ কারা করেছে তা বুঝতে পারছি না। এলাকা থেকে কোনো ধরনের হুমকি ছিল না। কিন্তু গত কয়েকটি ইস্যুতে এলাকার পলাতক আওয়ামী লীগের লোকজন ফেসবুক পোস্টে হুমকি দিচ্ছিল। এ কাজটি আওয়ামী লীগ করেছে এটা স্পষ্ট। ঘটনার পর অনবরত হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে মেসেজ দিয়ে বলছে “তোর বাড়িতে আগুন দিলাম, ভাগ্যিস তুই নাই। তোর ছেলে-মেয়ে বেঁচে গেল।” এ ঘটনায় আমি আইন পদক্ষেপ নেব।
ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ভোর রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এই ঘটনা নিবিড় তদন্ত চলছে। তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।
সূত্র জানায়, গত ৯ মার্চ ভোর রাতে সেহরির সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাহিদ খান পাভেলকে ছাত্রলীগ সন্দেহে মেরে থানার সামনে ফেলে রাখে এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা। তাদের মাঝে হাসিব, শুভ, সাইফুল্লাহ, মহিউদ্দিন ছিল। তাদের নেতৃত্বে প্রায় ২০–২৫ জন কোনো কারণ ছাড়াই দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা মারধর করে ওই শিক্ষার্থীকে।
আপনার মন্তব্য