সিলেটটুডে ডেস্ক

১৯ জুন, ২০২৬ ২৩:৫৬

প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমকে নিয়ে প্রতিবেদন: মানহানি মামলায় সাংবাদিক গ্রেপ্তার

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম (বাঁয়ে) ও সাংবাদিক রেজানুর ইসলাম (ডানে)। ফাইল ছবি

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নিয়ে প্রতিবেদনে মিথ্যা তথ্য প্রকাশের অভিযোগে করা মামলায় এক সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করেছে বগুড়া পুলিশ।

গ্রেপ্তার রেজানুর ইসলাম ঢাকা থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক।

বগুড়া ডিবি পুলিশের একটি দল বৃহস্পতিবার রাতে গাজীপুরের বোর্ড বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

শুক্রবার তাকে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া কারাগারে পাঠানো হয় বলে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আতাউর রহমান জানান।

৪০ বছর বয়সী রেজানুর গাজীপুরের জয়দেবপুর উপজেলার বসুরা এলাকার জলিল মিয়ার ছেলে।

১৫ জুন বগুড়া আদালতে এই মামলার আবেদন করেন বগুড়া প্রেস ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ এবং দি নিউ নেশন পত্রিকার উত্তরাঞ্চলীয় প্রতিনিধি তানভীর আলম রিমন।


মামলায় ৪ জুন পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা ও ভুয়া তথ্য’ প্রকাশ করে ‘ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টার’ অভিযোগ আনা হয়।

এ ছাড়া ১২ জুন বগুড়া প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘এবার সাংবাদিকদের উপদেশ দিলেন রাস্তা–কাণ্ডে বিতর্কিত প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম’ শিরোনামে একটি পোস্ট প্রচার করা হয়।

একইভাবে ১৩ জুন প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে মিথ্যা ও ভুয়া তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক মেহেদী হাসান, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজানুর ইসলাম, বার্তা সম্পাদক আশরাফ আলী ফারুকী, প্রতিবেদক সালেহ কায়সার, বগুড়া প্রতিবেদক মো. শামস এবং বগুড়া জেলা প্রতিনিধি সাব্বির হাসানকে মামলায় আসামি করা হয়।

মামলায় বাদী বলেন, বিবাদীরা কোনো ধরনের নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রীর মীর শাহে আলমের বিরুদ্ধে প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রচার করেছেন। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সুনাম ক্ষুন্ন হওয়ার পাশাপাশি জনমনে বিভ্রান্তি ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

বগুড়ার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মেহেদী হাসান এই অভিযোগ সদর থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান ডিবি পুলিশের এসআই রহমতুল্লাহ মানিক।

বগুড়া জেলা ডিবি পুলিশের ওসি ইকবাল বাহার বলেন, “আসামি রেজানুর ইসলামকে আজ দুপুরে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেলা করাগারে পাঠানো হয়েছে।”

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রহমাতুল্লাহ মানিক বলেন, “অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।”

প্রতিমন্ত্রীর বিবৃতি

এদিকে এ ঘটনার বিষয়ে শুক্রবার রাতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম একটি বিবৃতি দিয়েছেন। তার প্রেস সেক্রেটারি মো. আতিকুর রহমান সাংবাদিকদের কাছে এই বিবৃতি পাঠিয়েছেন।

এতে বলা হয়, সম্প্রতি স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অপতথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে সবার প্রতি অনুরোধ, প্রতিমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে বা তার পক্ষে দাবি করে কেউ যেন ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোনো মামলা, বিবৃতি বা অন্য কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করেন। এ ধরনের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর কোনো অনুমোদন বা নির্দেশনা নেই।

বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের চারজনকে নিয়ে উদ্ভূত ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ পারস্পরিক আলোচনা ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছাবেন এবং গ্রেপ্তার করা সাংবাদিক দ্রুত মুক্তি পাবেন। একই সঙ্গে যেহেতু মামলার বাদীও একজন সাংবাদিক ও বগুড়া প্রেস ক্লাবের নির্বাচিত কোষাধ্যক্ষ, তাই এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহান পেশা সাংবাদিকতায় কর্মরত সাংবাদিক সমাজের দুই পক্ষের মধ্যে কোনো ধরনের ভুল–বোঝাবুঝি বা উত্তেজনা সৃষ্টি না হয়, সেদিকে সবাইকে সংযম ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রী তার সম্পর্কে প্রচারিত বিভিন্ন অপতথ্য নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত