সিলেটটুডে ডেস্ক

১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:১৫

বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচের জন্য ডেকে নিয়ে দুই নৃত্যশিল্পীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

প্রতীকী ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বিয়ের অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশনের কথা বলে ডেকে নিয়ে দুই শিল্পীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। পুলিশ শান্ত বিশ্বাস (১৯) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে।

সরাইল থানার পুলিশ শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার বুড্ডা গ্রাম থেকে শান্তকে গ্রেপ্তার করে। শনিবার আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শাহবাজপুর গ্রামের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করার জন্য কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার নৃত্যশিল্পী এক তরুণের (১৯) সঙ্গে মুঠোফোনে শাহবাজপুর গ্রামের রাকিব মিয়া (২২) নামের এক যুবক যোগাযোগ করেন। তিন শিল্পীর সঙ্গে ৯ হাজার টাকায় চুক্তিবদ্ধ হন রাকিব মিয়া। ওই তিনজই পেশাদার নৃত্যশিল্পী। তাঁরা দেশের বিভিন্ন স্থানে বিয়েসহ নানা অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করেন। মোবাইল ফোনের আর্থিক পরিষেবার মাধ্যমে দুই হাজার টাকা পরিশোধও করেন রাকিব।

পুলিশের ভাষ্যমতে, গত বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে চান্দিনার ওই তরুণ এক কিশোরী (১৬) ও এক তরুণীকে (১৯) নিয়ে সরাইল বিশ্ব রোড মোড় এলাকায় পৌঁছান। পরে রাকিব মিয়াসহ দুই যুবক তাঁদের সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে শাহবাজপুর সেতু এলাকায় নিয়ে যান। সেখান থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে তিন নৃত্যশিল্পীকে তিতাস নদের শাহবাজপুর এলাকায় নিয়ে যান। একপর্যায়ে নদের মাঝখানে নৌকার ইঞ্জিন বন্ধ করে দেন পাঁচ যুবক।

পুলিশ জানায়, এরপর পুরুষ শিল্পীকে দেশি অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে দুই নারী নৃত্যশিল্পীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করেন ওই যুবকেরা। বিকেল পাঁচটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত চলে এই পাশবিকতা। পরে রাত আটটার দিকে তিন নৃত্যশিল্পীকে তিতাস নদের নাসিরনগর উপজেলার ভূঁইয়ার ঘাট এলাকায় কাদাপানিতে ফেলে পাঁচ যুবক নৌকা নিয়ে পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী বাদী হয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার রাতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সরাইল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই যুবক ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। অন্য চারজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত