সিলেটটুডে ডেস্ক

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:০৫

‘হাসিনা ফিরলে পুলিশ কিছুই করতে পারবে না’ বলা সেই ওসি ডিবি হেফাজতে

সরকার ও পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনী নিয়ে বক্তব্যের অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনায় আসা পুলিশ কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসানকে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

ডিবির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ছড়িয়ে পড়া অডিওর বিষয়ে চলমান অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তাঁকে ডিবিতে নেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার আগে এ ধরনের অনুসন্ধান করতে হয়।

তবে অনুসন্ধান কি ডিবি করছে নাকি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কোনো কমিটির অধীনে হচ্ছে—সে বিষয়ে বিস্তারিত বলতে চাননি ওই কর্মকর্তা। কখন রাকিবুল হাসানকে ডিবিতে নেওয়া হয়েছে, সেটিও তিনি জানাতে চাননি। রাত ১২টায় এই প্রতিবেদন লেখার সময় রাকিবুল হাসান ডিবি কার্যালয়ে ছিলেন বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

পুলিশের পরিদর্শক রাকিবুল হাসান ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে ছিলেন। গত বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে। এতে রাকিবুল হাসানকে সরকার, প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনী নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করতে শোনা যায়।

অডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘রাস্তায় থাকা পুলিশ খুবই দুর্বল। শেখ হাসিনা যদি ডিসেম্বরে ফিরে আসে, তবে তারা কিছুই করতে পারবে না।’

তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিএনপির দিকে ঝুঁকছেন, অথচ মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা তা করছেন না।

তিনি পুলিশের ভেতরে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ নিয়েও কথা বলেন। ঘুষের বিনিময়ে পুলিশে পদায়নের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অডিওটি রাকিবুল হাসানের বলে প্রাথমিকভাবে তারা নিশ্চিত হয়েছে।

অডিওতে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা এবং পুলিশের সক্ষমতা নিয়ে মন্তব্য করতে শোনা যায় রাকিবুল হাসানকে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও কথা বলেন তিনি। পাশাপাশি পুলিশে বিভিন্ন পদে পদায়নে অর্থ লেনদেনসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করেন।

এই অডিও রেকর্ড নিয়ে আলোচনার মধ্যে বুধবার রাকিবুল হাসানকে ক্যান্টনমেন্ট থানা থেকে প্রত্যাহার করে ডিএমপির সদরদপ্তর ও প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদের সই করা অফিস আদেশে এর পেছনে ‘প্রশাসনিক কারণ’ উল্লেখ করা হয়।

ছড়িয়ে পড়া ওই অডিওর বক্তব্যের বিষয়ে জানতে রাকিবুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত