১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৫২
অবশেষে সিলেটের পুরনো কারাগারে হচ্ছে উন্মুক্ত উদ্যান। কারাগারের জায়গাটি সিটি করপোরেশনের অধীনে ছেড়ে দিতে সম্মত হয়েছে কারা অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত উচ্চ পর্যায়ের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
এসময় বাণিজ্যমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান, কারা মহাপরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) কর্নেল মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল সহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সিলেট সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা নেহাররঞ্জন পুরকায়স্থ এক ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পুরো জমিতে নির্মিত হতে যাচ্ছে একটি নান্দনিক পার্ক ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর!
নেহার রঞ্জন আরও জানান, ইট-পাথরের এই ব্যস্ত নগরীতে শিশু-কিশোরদের হাসি, প্রবীণদের সকালের হাঁটা আর পরিবারের সাথে নির্মল সময় কাটানোর এক স্বস্তির ঠিকানা হতে চলেছে এই জায়গাটি। একপাশে সবুজের সমারোহ আর অন্যপাশে বীর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস—এই মেলবন্ধন আমাদের নতুন প্রজন্মকে দেশের ইতিহাসের সাথে আরও গভীরভাবে সংযুক্ত করবে।
শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর প্রচেষ্টায় নগরবাসীর দীর্ঘদিনের এই স্বপ্ন বাস্তবের পথে জানিয়ে নেগাররঞ্জন উল্লেখ করেন, কোনো বাণিজ্যিক স্থাপনা নয়, সম্পূর্ণ জনকল্যাণমূলক এই উদ্যোগ সিলেটকে আরও একটি ‘গ্রিন ও ক্লিন’ নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পথে এক বিশাল মাইলফলক।
অচিরেই শুরু হবে এই রূপান্তরের কাজ। বন্দিত্বের সেই পুরোনো ইতিহাস পেছনে ফেলে, এই জায়গাই হতে যাচ্ছে আমাদের প্রাণের সিলেটের নতুন এক গর্বের প্রতীক।
পুরোনো কারাগারের স্থানে একটি নান্দনিক উদ্যন নির্মাণের আশ্বাস দেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে নগরবাসীকে এই জায়গায় পার্ক নির্মাণের কথা বলেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বরাবর আধা-সরকারি (ডিও) পত্র দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করে।
কমিটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে। সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে ভূমিটি সিলেট সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে প্রতিবেদন দেয়।
বৃহস্পতিবারের সভায় সেই প্রতিবেদন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এরপর পার্ক ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণের জন্য ভূমিটি সিলেট সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুরোনো কারাগারের এই জায়গায় সিটি করপোরেশন কোনো বাণিজ্যিক স্থাপনা বা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারবে না। কারাগারের সব বন্দিকে বাদাঘাটে অবস্থিত কারাগারে স্থানান্তর করা হবে। সেখানে ‘সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২’ নামে আরেকটি কারাগার নির্মাণ করা হবে।
প্রসঙ্গত, সিলেটের এই কারাগারের জায়গায় উন্মুক্ত উদ্যান নির্মাণের বিষয়টি প্রথম সামনে আনেন প্রয়াত অর্থমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল মাল আবদুল মুহিত। তার উদ্যোগেই বাদাঘাটে নির্মিত হয় সিলেট কেন্দ্রিয় কারাগার-২। তবে কারা অধিদপ্তদর পুরনো কারাগারের জমি ছাড়ে আপত্তি জানানোতে সে জায়গায় উদ্যান করতে পারেননি মুহিত।
আপনার মন্তব্য