ইয়াকুব শাহরিয়ার, শান্তিগঞ্জ

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:৪৩

শান্তিগঞ্জে ‘নৌকা বাইচে’ হাজারো মানুষের ঢল

মোটরসাইকেল বিজয়ী হবিগঞ্জের জাকিরের তরী

আকিল শাহ তরী, স্বপ্নের তরী, জাকিরের তরী, জলপবন, রঙ্গিলা পবন এরকম বাহারি নামে ১৮টি নৌকা অংশগ্রহণ করেছিলো নৌকা বাইচে। বুধবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের খাই হাওরে অনুষ্ঠিত হয় এ প্রতিযোগিতা।

ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিত হওয়া আকর্ষণী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় চূড়ান্ত বিজয়ী হয় হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার জাকিরের তরী। পুরষ্কার হিসেবে জাকিরের তরী জিতে নেয় একটি নতুন মোটরসাইকেল। দ্বিতীয় স্থান দখল করে স্বপ্নের তরী-১, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান দখল করে নেয় যথাক্রমে রঙ্গিলা তরী ও জল পবন।

দ্বিতীয় স্থান দখলকারীকে দেওয়া হয় একটি বড় ফ্রিজ, তৃতীয় স্থানের পুরষ্কার ছিলো একটি মাঝারি মানের ফ্রিজ এবং চতুর্থ পুরষ্কার ছিলো একটি এলইডি টিভি। আকর্ষনীয় এই নৌকা বাইচের আয়োজন করেন পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের ধলমৈশা গ্রামের বাসিন্দা, ইংল্যান্ড প্রবাসী আবুল হোসেন। নিজ গ্রাম, হাঁসকুড়ি ও ইউনিয়নবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় এই আয়োজন করেন তিনি।

গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজন দেখতে খাই হাওরের বেরি বাঁধে জড়ো হন হাজার হাজার মানুষ। বেরি বাঁধের পাড়ে দাঁড়িয়ে কিংবা ভাড়া করা নৌকায় বসে নৌকা বাইচ দেখেন উৎসুক জনতা। কখনো রোদ আর কখনো প্রচণ্ড বৃষ্টি। সব কিছু উপেক্ষা করে হাজারো মানুষ দিনভর প্রাণবন্ত করে রাখেন এই আয়োজনকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুরের আগেই বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গাড়ি আর নৌকায় করে খাই হাওরে এসে নৌকা বাইচের তলায় বসার স্থান দখল করেন দর্শনার্থী। সুবিধামত বাইচ দেখতে আলাদা করে ইঞ্জিন চালিত নৌকা ভাড়া করেন কেউ কেউ। অনেক নৌকায় ভ্রাম্যমাণ দোকানের দেখা মিলে। ভ্রাম্যমাণ ভাত ও বিরিয়ানির দোকানও চোখে পড়ে। হাজারো মানুষে কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠে খাই হাওরের বেড়িবাঁধ এলাকা।

দর্শনার্থীরা জানান, খেলা শুরু হয় দুপুর ১টার দিকে। ছোট ছোট নৌকার বাইচ অনুষ্ঠিত হয় ধারাবাহিকভাবে। কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করে চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেয় স্বপ্নের তরী-১, জাকিরের তরী, রঙ্গিলা পবন ও জল পবন। চূড়ান্ত পর্বে বিজয়ী হয় জাকিরের তরী। তারা জানান, এর মধ্য বৃষ্টির কারণে বাইচ বন্ধ ছিলো প্রায় ১ ঘন্টা। বৃষ্টি বন্ধের পর পুনরায় প্রতিযোগিতা শুরু হয় এবং সন্ধ্যা ৬টার দিকে প্রতিযোগিতা শেষ হয়। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিরা।

পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আনছার উদ্দিন, অপর সদস্য ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিল্লোল চাকমাসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

খেলা দেখতে আসা এক দর্শনার্থী আবদুল হক বলেন, আমরা অনেক দূর থেকে নৌকা বাইচ দেখতে এসেছি। যখনই শোনেছি ধলমৈশাতে নৌকা বাইচ হবে তখন থেকেই আসার সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছি। লন্ডন প্রবাসী আবুল হোসেন সাহেব এই আয়োজন করেছেন। আমরা তার কাছে কৃতজ্ঞ। এধরণের আয়োজন গ্রামীণ ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখে।

আয়োজক আবুল হোসেন বলেন, আমি সৌখিন প্রবাসী মানুষ। সব সময় এ ধরণের আয়োজন করে থাকি। এবছরও করেছি। গ্রামের সবাই আমাকে সহযোগিতা করেছেন। আমি চাই নৌকা বাইচ বেঁচে থাকুক। এটা যেনো হারিয়ে না যায়। সরকারের কাছে আমার দাবি, আমরা যারা ব্যক্তি উদ্যোগে এধরণের আয়োজন করার চেষ্টা করে যাচ্ছি তাদেরকে অবশ্যই আপনারা সহযোগিতা করুন এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এ ধরণের আয়োজন করুন। তা না হলে একসময় নৌকা বাইচসহ গ্রামীণ ঐতিহ্যগুলো হারিয়ে যাবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত