সিলেটটুডে ডেস্ক

২৭ ফেব্রুয়ারি , ২০১৬ ২৩:০৪

‘অভিজিতের আদর্শ ধারণ করলেই হত্যার শিকার হতে হবে’

মুক্তমনা লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায়ের আদর্শ কেউ ধারণ করতে চাইলেই তাকে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হতে হবে; আর বিচারহীন ভাবেই আটকে থাকবে ওইসব হত্যা মামলা।

একের পর এক ব্লগার, লেখক ও প্রকাশক হত্যার ঘটনায় এভাবেই প্রতিক্রিয়া জানালেন চিত্র নির্মাতা রাকিবুল হাসান।

শুক্রবার বিকালে অভিজিতের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে ‘মুক্তমনা লেখক ব্লগারদের উপর সাম্প্রদায়িক শক্তির সহিংসতা’ নিয়ে রাকিবুল হাসানের ‘আলো হাতে আঁধারের যাত্রী’ প্রামাণ্যচিত্রের উদ্বোধন হয়। এর উদ্বোধন করেন অভিজিতের বাবা অধ্যাপক অজয় রায়।

প্রামাণ্যচিত্র সম্পর্কে রাকিবুল হাসান বলেন, ‘মুক্তমনা লেখক, ব্লগারদের উপর সাম্প্রদায়িক শক্তির নৃশংসতায় হতাশ এবং ক্ষুব্ধ হয়েই এ প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করেছি। আমি যা বিশ্বাস করি সেটাই ছবির মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।’

তিনি বলেন, ‘অভিজিৎ হত্যার (২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫) এক মাস পরই গত বছরের মার্চে নির্মমভাবে খুন হলেন ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান বাবু। এ দুটি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে। অভিজিৎ মারা যাওয়ার পরদিন বাবু তার ফেসবুকের প্রোফাইল পিকচার বদলে ফেলেছিল। সে ছবিতে লেখা ছিল আমি অভিজিৎ। তারপর বাবুরও সেই একই পরিণতি হলো। এর মানে দাঁড়ায় অভিজিৎ হতে গেলেই তাকে এই পরিণতি বরণ করতে হবে।’

এই চিত্র নির্মাতা আরো বলেন, ‘হুমায়ুন আজাদ স্যারকে হত্যার এক যুগ কেটে গেছে, আমরা বিচার পাইনি। অভিজিত রায় শুধু বাংলাদেশি নয় সে যুক্তরাষ্ট্রেরও নাগরিক। তাই এ হত্যা মামলার তদন্তে সাহায্য করছে খোদ এফবিআই। তবু এক বছরেও হত্যা রহস্য উদঘাটিত হয়নি। সরকার যদি এসব ঘটনার বিচার করতে পারতো তাহলে অন্য ঘটনাগুলো আর ঘটতো না।’



প্রামাণ্যচিত্রে অভিজিতের স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যার দেয়া সাক্ষাতকারের কথা উল্লেখ করে রাকিবুল বলেন, ‘বন্যা বলেছেন তিনি কখনোই আশা করেননি যে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। কারণ দলটি মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি হিসেবে পরিচিত এবং এর দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা জাতির জনকের কন্যা।’

ইতিহাসের দৃষ্টান্ত দিয়ে রাকিবুল হাসান বলেন, ‘সামরিক সরকার এসে সংবিধান সংশোধন না করেই আমাদের দেশকে ইসলামিক রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করলো। যা সংবিধানের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। কারণ ’৭২ সালের সংবিধান অনুযায়ী আমরা ধর্ম নিরপেক্ষ।’

ব্লগার হত্যায় সরকারের নিশ্চুপ থাকার কারণ ব্যখ্যা করে তিনি বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত অভিমত ভোটের রাজনীতিতে টিকে থাকতেই সরকার এ বিষয়ে তৎপর নয়। হেফাজতে ইসলামের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিহত করার পর ঢাকার বাইরের সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলোতে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হয়। হেফাজত সমর্থকরা ঢাকার বাইরে এমন অপপ্রচার চালায় যাতে গ্রামের সহজ-সরল সাধারণ মানুষেরা মনে করে, এ সরকার ইসলাম বিরোধী। যার কারণে ওই নির্বাচনে তাদের ভরাডুবি হয়।’

আপনার মন্তব্য

আলোচিত