নিউজ ডেস্ক

২৫ ফেব্রুয়ারি , ২০১৫ ০০:১২

সম্পাদক পরিষদে বিভক্তি: সাধারণ সম্পাদকের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন-ক্ষোভ

সম্পাদক পরিষদ (Editors Council)-এর সাধারণ সম্পাদকের একক বিবৃতিতে বিভক্ত হয়ে পড়েছে মুদ্রিত সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ। কার সভাপতিত্বে, কোথায় এ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হলো এবং কোন এখতিয়ারে এরকম বিবৃতি দেওয়া হয়েছে এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমের ওপর সরকার হস্তক্ষেপ করছে মর্মে তৈরি একটি বিবৃতি নিয়ে এ মতানৈক্যের । মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃততে বলা হয়- ‘আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, সাম্প্রতিক সময়ে সংবাদপত্র ও জাতীয় প্রচার মাধ্যমের পক্ষে স্বাধীন ও নিরপক্ষেভাবে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

মাহফুজ আনামের বিবৃতির বিষয়বস্তুর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে পরিষদের সভাপতি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলা দৈনিক সমকালের সম্পাদক গোলাম সারওয়ার জানিয়েছেন তার সঙ্গে কোনো ধরনের আলাপ-আলোচনা না করেই এই বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভোরের কাগজ পত্রিকার সম্পাদক শ্যামল দত্তও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এহেন বিবৃতিতে।

সম্পাদক পরিষদ (Editors Council)-এর সভাপতি গোলাম সারওয়ার একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমকে জানান- “পরশু দিন আমি জরুরি প্রয়োজনে আমেরিকায় চলে এসেছি। আমি সম্পাদক পরিষদের সভাপতি। বিবৃতিতে অনেক কড়া কড়া কথা আছে, যা আমার সঙ্গে আলাপ না করেই দেওয়া হয়েছে। আমি এই বিবৃতিকে ওন করি না।”

মাহফুজ আনাম স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, সাম্প্রতিক সময়ে সংবাদপত্র ও জাতীয় প্রচার মাধ্যমের পক্ষে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। একদিকে রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে দায়িত্বরত সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটছে অন্যদিকে সংবাদপত্র ও প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার চেষ্টা চলছে।

“সরকারের পক্ষ থেকে প্রচার মাধ্যমের অধিকারে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে।সরকার ও প্রশাসন স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনায় বাধা সৃষ্টি করছে। কখনো কখনো কোনো কোনো পত্রিকা বা টেলিভিশনকে অন্যায়ভাবে বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর মুখপাত্র হিসেবে তকমা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষত সম্প্রতি দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকায় প্রকাশিত একটি ছবি ও ক্যাপশন ছাপানোকে কেন্দ্র করে সংসদে দেওয়া প্রতিক্রিয়া প্রচার মাধ্যমের প্রতি বৈরী মনোভাবেরই প্রকাশ, যা কোন সরকারের কাছ থেকে কাম্য নয়। সংসদে সম্পাদক ও প্রকাশকদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, যা তাদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হুমকিস্বরূপ।”

বিবৃতিটিতে আরও বলা হয়, “ইতোমধ্যে একাধিক সম্পাদক ও প্রকাশকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ পত্রিকার অফিসে তল্লাশির নামে পুলিশি হয়রানির মতো ঘটনাও ঘটানো হয়েছে। “আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। এছাড়াও একাধিক টিভি মালিককে গ্রেফতার করে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে।

“এছাড়াও টিভি টকশোতে নানাভাবে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কিছু টকশো বন্ধ করা হয়েছে। টকশোর অতিথি তালিকা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে। লাইভ অনুষ্ঠান প্রচার নিয়ে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। কী প্রচার হবে আর হবে না তা নিয়ে টেলিফোনে নির্দেশনাও স্বাধীন মতপ্রকাশের ওপর হস্তক্ষেপ বলে আমরা মনে করি।”

‘গণমাধ্যমের কোন কোন সাংবাদিককে সরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ও দলীয় কার্যক্রমের খবর সংগ্রহের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না’ উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, “ প্রচার মাধ্যমসহ অন্যান্য পক্ষকে বিরুদ্ধ শক্তি হিসেবে দাঁড় করিয়ে অযথা হয়রানি করাটা স্বাধীন গণমাধ্যমের সহায়ক হতে পারে না।”

“সংবাদপত্রসহ সকল প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও দলনিরপেক্ষতা সংরক্ষণে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে অধিকতর দায়িত্বশীল ও সহযোগিতামূলক আচরণ আশা করি,” বলা হয় মাহফুজ আনামের বিবৃতিতে।

এই বিবৃতির সঙ্গে সম্পাদক পরিষদ (Editors Council)-এর সভাপতি গোলাম সারওয়ার একমত নন তার প্রমাণ পাওয়া যায় এ বিবৃতি পাঠানোর পর গোলাম সারওয়ারের সম্পাদনায় প্রকাশিত জাতীয় দৈনিক সমকালের ইন্টারনেট সংস্করণে প্রকাশ হওয়ার পরে তা প্রত্যাহার করে নেওয়ার মাধ্যমে।

 

 

 

আপনার মন্তব্য

আলোচিত