নিউজ ডেস্ক

২৮ ফেব্রুয়ারি , ২০১৫ ১৪:৫৮

অভিজিৎ রায় হত্যা মামলার তদন্তে ডিবি

বিজ্ঞান ও সাম্প্রাদিয়কতা বিরোধী লেখক, মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ রায়ের হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) একুশে বইমেলা থেকে বাসা ফেরার পথে বইমেলার পাশেই টিএসসিতে জঙ্গি মৌলবাদী কর্তৃক আক্রান্ত হন অভিজিৎ রায়। মারাত্মকভাবে আহত হন তাঁর স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা।

গুরুত্বর আহত অবস্থায় অভিজিৎ রায়কে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তারেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত বন্যাকে ঢামেক থেকে স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে উন্নত চিকিৎসার জন্যে। অভিজিৎ রায়ের হত্যাকাণ্ড ও তার স্ত্রীকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় শুক্রবার সকালে শাহবাগ থানায় একটি মামলা করেন নিহত অভিজিতের বাবা শিক্ষাবিদ অধ্যাপক অজয় রায়।

শনিবার মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন শাহবাগ থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম।

শুক্রবার সকালে শাহবাগ থানায় মামলার পর অভিজিতের বাবা শিক্ষাবিদ অধ্যাপক অজয় রায় বলেন, 'অভিজিৎকে হত্যার জন্য উগ্র জঙ্গিবাদীরাই দায়ী। এদের মদদ দিয়েছে জামায়াত।'

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা আসার পর প্রতিদিনই বইমেলায় যাওয়া আসা করছিলেন অভিজিৎ রায়। বৃহস্পতিবার রাতে যে জায়গায় তার ওপর হামলা হয়, ওই পথ দিয়েই প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ বইমেলায় যায়, চলাফেরা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মীরা। ঘটনাস্থল থেকে টিএসসি মোড় আর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রবেশ পথের দূরত্ব ২৫/৩০ গজ।

২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি লেখক হুমায়ুন আজাদকেও কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয় এই টিএসসি এলাকায়। টিএসসি থেকে মাত্র শ’ খানেক গজ দূরে ফুটপাতের ওপর ফেলে কোপানো হয় তাকে, যে ঘটনায় জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। বইমেলার মাসে সেই তারিখের একদিন আগে ২৬ ফেব্রুয়ারি খুন হলেন অভিজিৎ, যিনি সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্ম ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে যুক্তিনির্ভর লেখালেখি করে আসছিলেন নিয়মিত। এ জন্য তাকে হুমকিও পেতে হয়েছে। একই স্থানে আবারও একজন লেখক হামলার শিকার হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বইমেলার প্রকাশক, লেখক, পাঠক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের মধ্যেও।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে অভিজিৎ রায়ের হত্যাকাণ্ডের খবর গুরুত্ব দিয়ে ছাপা হয়েছে। দি গার্ডিয়ান, সিডনি মরনিং হেরাল্ড, বিবিসি, এনডিটিভি সহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলোতে হত্যাকাণ্ডের খবরে ইসলামপন্থী জঙ্গি মৌলবাদী গোষ্ঠীদের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। সেখানে জঙ্গি মৌলবাদীদের দেওয়া হুমকিগুলো আলোচিত হয়।

ডেইলি মেইলের খবরে হামলার শিকার অভিজিৎ রায় ও তার স্ত্রীর ছবিসহ তার পারিবারিক কিছু ছবি প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি শিবির নেতা ফারাবীর ছবি প্রকাশ করে বলা হয়, ‘অভিজিত বাংলাদেশে আসলে তাকে হত্যা করা হবে’ এমন হুমকি আগেই দিয়েছিলেন ফারাবী।

বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের ঘণ্টাব্যাপী 'ওয়ার্ল্ড হেভ ইয়র সে' অনুষ্ঠানে লন্ডন প্রবাসী বাংলাদেশি ব্লগার আরিফুর রহমান, জার্মানিতে বসবাসরত আসিফ মহিউদ্দিন ও বিবিসি বাংলা বিভাগের সাংবাদিক মানসী বড়ুয়াসহ অন্যদের প্রতিক্রিয়া প্রচার করা হয়।

সংবাদ মাধ্যমগুলোতে অভিজিতের হত্যাকাণ্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি প্রতিক্রিয়াও ব্যাপক গুরুত্ব পায়।

 

 

 

আপনার মন্তব্য

আলোচিত