নিউজ ডেস্ক

০১ মার্চ, ২০১৫ ১৫:২৬

অভিজিৎ রায়ের লাশ ঢাকা মেডিকেলে হস্তান্তর

জীবদ্দশায় তিনি কাজ করেছেন বিজ্ঞানমনস্ক যুক্তিবাদী সমাজ গঠনে লেখালেখির মাধ্যমে আর মৃত্যুর পর তাঁর দেহ কাজে লাগবে গবেষণায়, চিকিৎসা বিজ্ঞানের শিক্ষায়। এটাই ছিল তাঁর ইচ্ছা যার বাস্তবায়ন ঘটল ঢাকা মেডিকেলে লাশ হস্তান্তরের মাধ্যমে। এর আগে সকালে বুয়েট আর অপরাজেয় বাংলার বেদিতে রাখা অভিজিৎ রায়ের কফিন ফুলে ফুলে ছেয়ে যায়। 

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) একুশে বইমেলা থেকে বাসা ফেরার পথে বইমেলার পাশেই টিএসসিতে জঙ্গি মৌলবাদী কর্তৃক আক্রান্ত হন বিজ্ঞান লেখক ও মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ রায়। মারাত্মকভাবে আহত হন তাঁর স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা।

গুরুত্বর আহত অবস্থায় অভিজিৎ রায়কে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তারেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত বন্যাকে ঢামেক থেকে স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে উন্নত চিকিৎসার জন্যে।

রোববার (১ মার্চ) অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এই লেখকের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানায় বন্ধু, স্বজন, শুভানুধ্যায়ী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সংগঠনের কর্মীরা। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর অভিজিতের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তার বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক অজয় রায়ের সিদ্ধেশ্বরীর বাসায়।  দুপুরে শিক্ষাবিদ অজয় রায় তার ছেলের লাশ তুলে দেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের শব ব্যবচ্ছেদবিদ্যা বিভাগের প্রধান ড. শামীম আরার কাছে।

প্রকৌশলী অভিজিৎ রায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি সফটওয়্যার কোম্পানিতে কাজ করছিলেন। স্ত্রীকে নিয়ে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দেশে আসার পর প্রতিদিনই বইমেলায় যাচ্ছিলেন।

এ পর্যন্ত প্রকাশিত তার ডজনখানেক বইয়ের বেশিরভাগই বিজ্ঞান, দর্শন, বস্তুবাদ নিয়ে লেখা। পত্রিকায় নিয়মিত লেখার পাশাপাশি তিনি ব্লগেও লিখতেন। লেখালেখির কারণে ধর্মীয়উগ্রবাদীদের হুমকিও পেতে হয়েছিল অভিজিৎ রায়কে।

এসএসসি ও এইচএসসি পাসের পর ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ভর্তি হন অভিজিৎ। যন্ত্র প্রকৌশলে লেখাপড়ার পর কর্মজীবন শুরু করেন অটবিতে। চাকরিরত অবস্থায় বৃত্তি নিয়ে পিএইচডি করতে সিঙ্গাপুরে যান অভিজিৎ। পরে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে তিনি জিপিএস প্রযুক্তির গবেষণায় যুক্ত ছিলেন।

অভিজিৎ-বন্যা দম্পতির একমাত্র মেয়ে তৃষা লেখাপড়া করেন যুক্তরাষ্ট্রে। ‘এ’ লেভেল শেষ করার পর সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন তিনি।

অভিজিৎ রায় বিভিন্ন সময়ে মৌলবাদী জঙ্গিগোষ্ঠী কর্তৃক হুমকির শিকার হয়েছেন। দেশে আসলেই তাঁকে হত্যা করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিল জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীর অনলাইন মুখপাত্র ফারাবি শফিউর রহমান।

 

 

 

আপনার মন্তব্য

আলোচিত