০২ মার্চ, ২০১৫ ০৪:৪৪
স্বপ্ন শুধু স্বপ্নই নই, বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় অবশেষে শুরু হলো পদ্মা সেতুর মূল কাজ। রোববার সকালে মুন্সীগঞ্জের পদ্মাপাড়ে শুরু হয়েছে ট্রায়াল পাইল স্থাপনে অ্যাঙ্কর পাইলের কাজ।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ কোম্পানি কাজ শুরুর ক্ষণে চীনের রীতি অনুযায়ী দুইটি কালো ষাঁড়, দুইটি খাসি ও দুইটি মোরগ পদ্মা নদীতে উৎসর্গ করে। এ সময় ষাঁড়ের চারটি রান পদ্মা নদীতে ছেড়ে দেয়া হয়। জবাই হওয়া পশুর রক্ত বিশেষ কৌশলে পদ্মায় ভাসিয়ে দেয়া হয়। বাকি মাংস প্রকল্পে কর্মরতদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সেতু নির্মাণে টেস্ট পাইল বসানোকে মূল সেতুর ভিত্তির প্রাথমিক ও প্রধান কাজ বলেই ধরে নেয়া হয়। পরীক্ষামূলক এ পাইলগুলো বসানো সম্ভব হলে তার ওপর ভিত্তি করেই বসানো হবে সেতুর পিলার। সেতু বিভাগের প্রকৌশলী ও পদ্মা সেতুর কাজের দায়িত্ব পাওয়া চায়না মেজর ব্রিজের প্রকৌশলীরা জানান, টেস্ট পাইলিংয়ের পর জুলাই মাসে মূল পাইলিংয়ের কাজ শুরু হবে।
পদ্মা সেতুর বিশেষজ্ঞ প্যানেল সূত্র জানায়, মূল সেতুর পাইলগুলো ৩ ডায়ামিটারের। তবে টেস্ট পাইলের ক্ষেত্রে দেড় ডায়ামিটার দিয়ে ধারণ ক্ষমতা দেখা হচ্ছে। মূল সেতুর পাইলগুলো দেখতে হবে গোলাকৃতির। এর স্টিল প্লেট হবে ফ্লাট। এটা বেশ মোটা, যা পদ্মার ফেব্রিকেশন ইয়ার্ডে এনে ফেব্রিকেট করা হবে।
মূল পাইলের পাইল ড্রাইভিং হ্যামার জার্মানিতে বানানো হচ্ছে। সেতু প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পদ্মা সেতু মাথা তুলে দাঁড়াবে ৪২টি পিলারের ওপর। পদ্মার দুই দিকে থাকবে দুটি আর মাঝখানে ৪০টি পিলার। পিলারের জায়গাগুলো সয়েল বোরিং করা হবে। এখন পর্যন্ত আটটি সয়েল বোরিং সম্পন্ন হয়েছে। আর নদীশাসন কাজের জন্য অনেকগুলো ড্রেজার লাগবে। এর মধ্যে কিছু ড্রেজার এসে গেছে, বাকিগুলো আসার পথে রয়েছে। ড্রেজিং কাজ হলে পদ্মার দক্ষিণ দিকে ৪০০ মিটার ট্রায়াল সেকশন করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, হরতাল-অবরোধের মধ্যেও পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শিডিউল অনুযায়ীই এগিয়ে চলছে। কর্তৃপক্ষ আশা করছে, ৪ বছরের জন্য ঘোষিত নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী যথাসময়ে বা তার আগেই পদ্মা বহুমুখী সেতুর কাজ শেষ হবে।
আপনার মন্তব্য