২০ জুন, ২০১৬ ১৫:৪৯
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত মেজর জিয়াউর রহমান কোনো দিনই সন্মূখ যুদ্ধ করেননি বলে মন্তব্য করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘যেখানে যুদ্ধ, যেখানে গোলাবারুদ সেখানেই উনি (জিয়াউর রহমান) নেই। উনি আসলে কোনো যুদ্ধ করেন নি।’
সোমবার দুপুরে জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী এই মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী বলেন, উনি (জিয়াউর রহমান) আর আমি একসঙ্গে ছিলাম। আমি তখন নির্বাচিত এমপি। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ দুপুর দুইটায় তৎকালীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমএ হান্নান সাহেব বঙ্গবন্ধুর মধ্য রাতে দেয়া স্বাধীনতার ঘোষণাটি পাঠ করেন। আমি একটা কথা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই। সেই বক্তব্য আবার লিখিতভাবে ড্রাফ করে দেই আমরা। আমরা সেটা উনাকে (জিয়াকে) দিলাম। উনি সেটা পড়েছেন ‘আই মেজর জিয়া অন বি হাফ অব দি আওয়া গ্রেট লিডার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টু ডিকলেয়ার ইনডিপেন্ডেন্ট।
এসময় তিনি খালেদা জিয়ার উদ্দেশে বলেন, ম্যাডাম খালেদা জিয়া আপনি নিজেই বলেন জিয়া ২৭ তারিখ স্বাধীনতা ঘোষণা দিয়েছেন। তাহলে ২৬ তারিখ কেন স্বাধীনতা দিবস পালন করেন? এর কোনো উত্তর আপনার কাছে আছে? কাজেই ইতিহাস যেটা, সেটাই সত্য। ইতিহাস মেনে চলা উচিত। তাই এখনো যারা বেঁচে আছে তাদের কাছ থেকে সত্য ইতিহাস তুলে ধরা উচিত।
মন্ত্রী বলেন, যেখানে যুদ্ধ, সেখানেই সে (জিয়া) থাকতো না। আমাদের ছেড়ে সে পালিয়ে যেতো। তার সঙ্গে থাকা একজন লেফটেনেন্ট অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রেখে রামগড়ে চলে যায় জিয়া। আমরা রামগড়ে গিয়ে দেখি সে রামগড়ে বসে আছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম আপনি এখানে কেনো? সে কয় আমি ভারত থেকে অস্ত্র নিতে এসেছি। অর্থাৎ যেখানে যুদ্ধ-গোলাবারুদ, সেখানেই উনি নেই। আজ হঠাৎ এসব কথা মনে পড়লো পাশেই বসা স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়কার সাথী মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম ও ক্যাপ্টেন (অব.) সুবিদ আলী ভূঁইয়াকে দেখে। তারা আছেন তারা বলতে পারবেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বিশ্ব নেত্রী। তার নাম সবখানে আর অপর দিকে ম্যাডাম খালেদা জিয়া চ্যাম্পিয়ন অব দ্যা সন্ত্রাস, চ্যাম্পিয়ন অব দ্যা পেট্রোল বোমা হয়েছেন। ম্যাডাম খালেদা জিয়া বাস পুড়িয়েছেন, মানুষ পুড়িয়েছেন, এমন কোনো কাজ নেই তিনি করেননি। নয়া জিনিস শুরু করেছেন, সেটা হলো গুপ্ত হত্যা। তবে যেভাবে ৯০ দিন পর আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে ঘরে ফিরে গেছেন, যেভাবে নির্বাচন রুখতে পারেননি, সেভাবেই এই গুপ্ত হত্যা বন্ধ হবে একদিন।
আপনার মন্তব্য