২১ জুন, ২০১৬ ২১:০৪
দেড় মাসের সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রকাশক আহমেদুর রশীদ টুটুল হত্যাচেষ্ঠায় অংশ নেয় সুমন। টুটুলের উপর হামলার পর চট্টগ্রামের একটি ঔষধ কোম্পানিতে বিপনন কর্মকর্তা হিসেবে চাকুরী করে সে।
শুদ্ধস্বরের প্রকাশক আহমেদুর রশীদ টুটুল হত্যাচেষ্টায় গ্রেপ্তার সুমন হোসেন পাটোয়ারি অপরাধ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দিতে সুমন এসব তথ্য জানায় বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
মহানগর হাকিম আহসান হাবিবের খাস কামরায় মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালত পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই কুতুবুল আলম।
জবানবন্দি নেওয়ার পরে তাকে কারাগারে পাঠান বিচারক।
গত বছর রাজধানীর লালমাটিয়ায় শুদ্ধস্বর কার্যালয়ে ঢুকে টুটুলকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় গত ১৫ জুন রাতে ঢাকার উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সুমনকে (২০)। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের এই সদস্য সিহাব, সাকিব, সাইফুল নামেও পরিচিত বলে পুলিশ জানিয়েছে।
আরও পড়ুন : টুটুলকে তিনটি কোপ দেয় সুমন, চাপাতি ধোয় মসজিদে : পুলিশ
গত বছরের ৩১ অক্টোবর বিকালে শুদ্ধস্বরের কার্যালয়ে হামলার সময়ই শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে জাগৃতি প্রকাশনীর কার্যালয়ে খুন করা হয়েছিল প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপনকে। দুটি হত্যাকাণ্ডেই আনসারুল্লাহ সদস্যরা জড়িত বলে গোয়েন্দারা সন্দেহ করে আসছিলেন।
ওই দুটি হামলার পর সন্দেহভাজন যে ছয় জঙ্গিকে গ্রেপ্তারে গত মে মাসে পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল পুলিশের পক্ষ থেকে, তাদের মধ্যে সুমনও ছিলো। তার বিষয়ে তথ্য দিতে দুই লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়।
সুমন আনসারুল্লাহর সঙ্গে দেড় বছর ধরে যুক্ত বলে গ্রেপ্তারের পর গণমাধ্যমকে জানায় পুলিশ। ছয় বছর ধরে নিষিদ্ধ আনসারুল্লাহর সাংগঠনিক কাঠামো, কীভাবে তারা কাজ করছে, এসব নিয়ে সুমন তথ্য পুলিশকে তথ্য দিয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়।
তার জবানবন্দির পর নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট আদালতের এক কর্মচারী বলেন, আনসারুল্লাহতে যোগদানের পর দেড় মাসের সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়ে টুটুল হত্যাচেষ্টায় অংশ নেয় বলে জবানবন্দিতে বলেছে সুমন।
শুদ্ধস্বরের প্রকাশকে হত্যা করতে সংগঠনের পাঁচজন সদস্য অংশ নেয় বলেও জানায় সুমন।
লালমাটিয়ায় শুদ্ধস্বরের কার্যালয়ে টুটুলের উপরের হামলার সময় সেখানে তার সঙ্গে থাকা ব্লগার তারেক রহিম ও রণদীপম বসুকেও কুপিয়ে জখম করা হয়।
টুটুলের উপর হামলার পর সুমন চট্টগ্রামে গিয়ে একটি ওষুধের দোকানের বিপণন কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সুমনের বাড়ি চাঁদপুরে হলেও তিনি বড় হয়েছেন চট্টগ্রামের হালিশহরে। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত লেখাপড়া করেছিলেন তিনি।
গত ১৯ ফ্রেব্রুয়ারি রাজধানীর বাড্ডার সাঁতারকুল ও মোহাম্মদপুরে দুটি ‘জঙ্গি আস্তানায়’ অভিযান চালানোর পর তার সূত্র ধরে সুমনকে গ্রেপ্তারের পথ তৈরি হয় বলে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল জানান।
আপনার মন্তব্য