২৫ জুন, ২০১৬ ১৪:৪৬
'আইজি সাব (পুলিশের মহা পরিদর্শক) ডেকেছেন' বলে এসপি বাবুল আক্তারকে মধ্যরাতে নিয়ে যায় পুলিশ। শুক্রবার মধ্যরাতে রাজধানীর খিলগাঁওয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবুল আক্তারকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর থেকেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা।
এমনটি জানিয়েছেন এসপি বাবুলের পরিবারের সদস্যরা। এ ব্যাপারে পুলিশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কিছু জানানো হয় নি। তবে বাবুলকে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল শনিবার বলেছেন, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
বাবুল আক্তারের শ্বশুর মোশাররফ হোসেন জানান, 'আইজিপি স্যার ডেকেছেন' বলে শুক্রবার রাত ১ টায় তার বাসা থেকে বাবুল আক্তারকে নিয়ে যায় পুলিশ।
তিনি জানান, শুক্রবার পুলিশের ২৪তম বিসিএস ফোরামের ইফতার পার্টিতে গিয়েছিলেন বাবুল আক্তার। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) সঙ্গে দেখা করে আসেন বাবুল।
মোশাররফ জানান, এরপর বাবুল সন্তানদের নিয়ে তার খিলগাঁওয়ের বাসায় ছিলেন। রাত ১টার দিকে খিলগাঁও থানার ওসি মাইনুল হোসেন ও ডিএমপির মতিঝিল জোনের উপ-কমিশনার আনোয়ার হোসেন ওই বাসায় গিয়ে 'আইজিপি স্যার ডেকেছেন, কথা বলবেন' বলে বাবুল আক্তারকে নিয়ে যায়।
এরপর থেকে বাবুল আক্তারের সঙ্গে আর কোনো ধরনের যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন তার শ্বশুর।
এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কিছু জানানো হয়নি।
স্ত্রী খুন হওয়ার পর থেকে দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় শ্বশুর বাড়িতেই থাকছিলেন এসপি বাবুল আক্তার। তার শ্বশুর মোশাররফ হোসেন অবসরে গিয়েছিলেন পুলিশের ওসি হিসেবে। আর বাবা আবদুল ওয়াদুদ মিয়াও চাকরি করেছেন পুলিশে।
শুক্রবার রাতে বনশ্রী থেকে যখন বাবুল আক্তারকে নিয়ে যাওয়া হয়, তার বাবাও তখন ওই বাসায় ছিলেন।
তিনি বলেন, “রাত পৌনে ১টার দিকে ডিসি সাহেব (আনোয়ার হোসেন) আসেন এবং আইজি সাহেব দেখা করতে বলেছেন জানিয়ে বাবুলকে নিয়ে যান।”
ওয়াদুদ মিয়া বলেন, “আমার ছেলের সাথে কোনোভাবেই যোগাযোগ করতে পারছি না। আগে ওসি সাহেব একবারেই ফোন ধরতেন, আমাদের নিরাপত্তার খোঁজ খবর নিতেন। এখন ফোনই ধরছেন না। ডিবি অফিসেও যোগাযোগ করেছি, কেউ কোনো সহযোগিতা করছে না; বলছে, উপরের অফিসাররা বলতে পারবে।”
প্রসঙ্গত, গত ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানার জিইসির মোড়ে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাত ও গুলিতে নিহত হন পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু।
এসপি পদে পদোন্নতি পাওয়ার আগে বাবুল আক্তার চট্টগ্রামে গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তা হিসেবে সফলতার সঙ্গে বেশ কয়েকটি জঙ্গি বিরোধী অভিযানে নেতৃত্ব দেন। এ কারণে তার স্ত্রী হত্যায় জঙ্গিরা জড়িত থাকতে পারে- এমন ধারণাকে সামনে রেখে তদন্তে নামে পুলিশ।
এরপর গত ১২ জুন এ ঘটনায় করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বদল করে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার সহকারী কমিশনার মো. কামরুজ্জামানকে তদন্তভার দেওয়া হয়। এর আগে গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক কাজী রকিব উদ্দিন মামলাটি তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন।
আপনার মন্তব্য