২৭ জুন, ২০১৬ ০১:৪৭
দেশে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। তিনি বলেছেন, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বলতে সব জায়গায় ধরে নেয়, ত্রিশ বছর। প্রকৃতপক্ষে এটার অপব্যাখ্যা হচ্ছে। যাবজ্জীবন অর্থ হলো, একেবারে যাবজ্জীবন, ‘রেস্ট অব দ্য লাইফ।’ তার মানে দণ্ডিত ব্যক্তিকে মৃত্যু পর্যন্ত কারাগারে থাকতে হবে।
রোববার গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শনে এসে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান বিচারপতির দেওয়া এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তবে ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি সিনিয়র অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেনের মতে, পেনাল কোডের বাইরে কাউকে শাস্তি দিতে হলে আইনের পরিবর্তন আনতে হবে। তিনি বলেন, ১৮৬০ সালের পেনাল কোড অনুযায়ী দেশে কোনো আসামির যাজ্জীবন কারাদণ্ড মানে ৩০ বছরের জেল। আর পেনাল কোডের ৫৭ ধারা অনুযায়ী কাউকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিতে হলে আইনের পরিবর্তন আনতে হবে।
কাশিমপুর কারাগারের সার্বিক অবস্থা দেখতে প্রধান বিচারপতি রোববার সকালে গাজীপুরে আসেন। ব্রিটিশ আমলে করা আইন ও কারাবিধির বর্তমান প্রেক্ষাপটে নানা অসঙ্গতির কথা তুলে ধরে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা বলেন, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জেল খাটার সময় রেয়াত পেলেও সেটা কোনোমতেই ৩০ বছরের কম হয় না। ব্রিটিশ আমলে কারাগারগুলোয় যাবজ্জীবনের প্রশ্ন ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন বিচারপতিকে বিচার করতে গিয়ে অনেক কিছু বিবেচনা করতে হয়। তখন একেবারে পার করা হতো। আমাদের জেল কোড অনেক পুরনো।
চার ঘণ্টা কারাগার পরিদর্শন শেষে বিচারিক জীবনের বিভিন্ন মামলা পরিচালনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা সাংবাদিকদের বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা, জেল হত্যা, যুদ্ধাপরাধীসহ অনেক মামলার রায় আমি দিয়েছি। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় কিছু ত্রুটি ছিল। সেগুলো আমি সংশোধন করতে পেরেছি। তিনি বলেন, জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলা দুঃখজনক হলেও সত্যি, আমি একাই বিভক্তি রায় দিয়েছিলাম। সেখানে ষড়যন্ত্র ছিল প্রমাণিত হলো। ষড়যন্ত্রের জন্য তাদের শাস্তি হলো না, আমি স্তম্ভিত হলাম। পরিকল্পিতভাবে হত্যার জন্য যারা পরিকল্পনা করেছে তাদের প্রত্যেকেরই শাস্তি হওয়া উচিত।
এ সময় প্রধান কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্টার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক এসএম আলম, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ, হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মিজানুর রহমান, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১ এর সিনিয়র জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা, কারাগার-২ এর সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিকসহ কারাগারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ।
আপনার মন্তব্য