নিজস্ব প্রতিবেদক

২৭ জুন, ২০১৬ ১৬:২৪

অসহায় পরিবারটির ভেঙ্গে যাওয়া স্বপ্ন বুনে দিলেন পুলিশ কর্মকর্তা

মা-মেয়ের অভাবের সংসার। দরিদ্র পরিবারের মেয়ে তানজিলা আক্তার সোহেলীর পড়াশুনা বন্ধ হয়েগেছে একবছর আগে। সহপাঠীদের সাথে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা ছিলো তার। কিন্তু অভাব-অনটনের সংসারের চাপে ফলাফল ভাল হয়নি। তাই মাঝপথে বাধ্য হয়েই পড়াশুনা ছাড়তে হয়েছে সিলেটের বর্ডারগার্ড স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্রী সোহেলীকে।

সোহেলীর মা তাসলিমা বেগম। বছরের পর বছর ধরে নানা অসুখে আক্রান্ত তিনি। চিকিৎসা করার সামর্থ্যটুকুও নেই। নিজের চিকিৎসা দূরে থাক, মেয়ের মুখে দুবেলা দুমুঠো খাবার তুলে দিতে পারেন না এই মধ্যবয়স্কা। মা-মেয়ের এই অভাব অনটনের সংসার সিলেটের আল-মদিনা আবাসিক এলাকার একটি ছোট্ট কলোনিতে। মা একটু আধটু সেলাইয়ের কাজ করেন। শারীরিক অসুস্থতার জন্য বেশি পরিশ্রমও করা যায়না।

আর কিশোরী সোহেলী পড়াশুনা করে মানুষের মতো মানুষ হওয়ার স্বপ্ন প্রায় ভুলেই গেছে। এমন অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে মানসিক চাপে একসময় এদিক ওদিক ছুটাছুটি করতে শুরু করে সে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানসিক চাপও বাড়তে তাকে তার। অথচ, একদিন সবই ছিলো তাদের।

জানা যায়, কয়েক বছর আগে সোহেলীর বাবা গাড়ী চালক মজিবুর রহমান গোপনে বিয়ে করেন অন্য এক নারীকে।এরপর থেকেই অবহেলার শুরু। নতুন সংসারের মোহে একসময় ভুলে যান স্ত্রী ও কন্যাকে। হঠাৎ পরিবারের এই দুর্যোগ অসহায় করে তোলে সোহেলী ও তার মাকে।

পেশায় গাড়ী চালক মজিবুর রহমানের বাড়ি সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার হাজীগঞ্জ গ্রামে। সেখানে তাদের আর্থিক অবস্থাও মোটামুটি ভালো। কিন্তু মজিবুর রহমান দ্বিতীয় বিয়ে করার পর পরিবারের কেউই সহায়তা করেনি প্রথম স্ত্রী তাসলিমা ও কন্যা সোহেলীকে।

এই অবস্থায় ধ্বংসের মুখে পড়ে যাওয়া পরিবারটি’র খবর আসে সিলেট নগরীর জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আক্তার হোসেনের কাছে। পরিবারটির দু:খগাঁথা মনে দাগ কাটে তাঁর।

দুঃখিনী মা ও মেয়ের জীবনের গল্প শুনে অসহায় তাদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। পরিবারটির আকুতি শুনে একটি সেলাই মেশিন কিনে দেয়ার ব্যবস্থা করে দেন। সেই সাথে স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে লেখাপড়া পুনরায়  শুরু করতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

রোববার সন্ধ্যায় জালালাবাদ থানায় সিলেটের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সোহেলী ও তার মায়ের হাতে চেক তুলে দেন তিনি।

ওসি আক্তার হোসেন জানান, অভাব-অনটনে হয়তো আর কোনোদিনই স্কুলে যাওয়া হতোনা মেয়েটির। চিকিৎসার অভাবে তাসলিমাও এতকদিন শয্যাশায়ী হতো। তাই পরিবারটিকে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। এদেশে এমন অনেক পরিবার আছে যারা সামান্য সহযোগিতা পেলে জীবন সংগ্রামের জয়ী হতে পারে।

পেশাগত দায়িত্বের বাইরেও একজন বিবেকবান মানুষ হিসেবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পের অনেকটাই গর্বিতবোধ করছেন মো. আক্তার হোসেন। পরিবারটি সম্মতি দিলে আইনগত সবধরনে সহযোগিতার আশ্বাস দেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত