সিলেটটুডে ডেস্ক

২৯ জুন, ২০১৬ ১৭:১৩

সংসদে সংশোধিত আকারে অর্থবিল-২০১৬ পাস

জাতীয় সংসদে অর্থবিল-২০১৬ সংশোধিত আকারে পাস করা হয়েছে। তৈরি পোশাকসহ বিদ্যমান কিছু খাতে কর ও শুল্ক হারের পরিবর্তনের বিধান রেখে এ অর্থবিল পাস হয়।

তৈরি পোশাকসহ সব ধরনের পণ্যে রফতানিমূল্যের ওপর ১ দশমিক ৫ শতাংশ উৎসে কর আদায়ের যে প্রস্তাব অর্থমন্ত্রী করেছিলেন, তা কমিয়ে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশে নামিয়ে আনাসহ বেশ কয়েকটি সংশোধনী এনে অর্থবিল-২০১৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। একই সঙ্গে তথ্য-প্রযুক্তি সেবায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানের স্থান ও স্থাপনা ভাড়ার ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট পুরোপুরি অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন। বিলটি গত ২ জুন জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়।

২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ দুটি বিষয়সহ বেশ কিছু প্রস্তাবে পরিবর্তন আনতে অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান।

প্রধানমন্ত্রীর পর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তার নিজের দেওয়া বাজেটের উপর সমাপনী বক্তৃতা শেষে বলেন, প্রধানমন্ত্রী বেশ কয়েকটি প্রস্তাব করেছেন। তার এই প্রস্তাবকে আমি অনুশাসন মনে করি, কারণ আমি তার হয়েই কাজ করি। প্রধানমন্ত্রী যেহেতু বলেছেন, তার সব প্রস্তাবই গ্রহণ হয়ে গেছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্জিত সাফল্য সব নাগরিকের সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করে ২০২১ সালে মধ্য আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালে সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করার দিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।
 
সংসদের ভেতরে ও বাইরে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর বিভিন্ন সমালোচনার জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ সমালোচনা বাজেট সংস্কার ও বাস্তবায়নে সহায়ক হবে। অনুকূল বিশ্ব ও জাতীয় বাস্তবতা আর সবার সমন্বিত কর্মপ্রচেষ্টায় সব সন্দেহের অবসান হবে এবং এবারও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।
 
রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার বিষয়ে যে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে তার জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত বছরগুলোতে রাজস্ব বিভাগের দক্ষতা এবং লোকবল বৃদ্ধিসহ অন্যান্য সুযোগ বৃদ্ধির ফলে এবার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।
 
অর্থমন্ত্রী বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের বিষয়ে সমালোচনার জবাবে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ২ শতাংশ অর্জনের ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
 
এছাড়া বাজেটে বিভিন্ন ব্যবস্থা এবং বরাদ্দ রাখার ফলে আগামী অর্থবছরে দেশে ব্যক্তি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে। এ খাতে বিনিয়োগ ৩ লাখ ৭৭ হাজার কোটি টাকা হবে বলেও আবুল মাল আব্দুল মুহিত।
 
অর্থমন্ত্রী শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দের দাবির বিষয়ে বলেন, এই দু’টি খাতেই সরকার প্রতি বছর বরাদ্দ বাড়িয়েছে।
 
তিনি বলেন, বাজেটে নারী সমাজের উন্নয়ন ও তাদের ক্ষমতায়ন এবং উন্নয়নের ধারায় আরও অবদান নিশ্চিত করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
 
কৃষি খাতে বরাদ্দ ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের তুলনায় প্রায় আড়াই গুণ বাড়ানো হয়েছে। এ খাতে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৩ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা। আর কৃষিতে ভর্তুকি বাবদ ৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

বাজেট বক্তব্যে তিনি তার কর প্রস্তাবের কিছু খাতে পরিবর্তনের প্রস্তাব করেন। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবিত বিষয়গুলো গ্রহণ করেন। এ ক্ষেত্রে তিনি পোশাক শিল্পে উৎসে কর চলতি অর্থবছরের দশমিক ৬০ শতাংশের স্থলে দশমিক ৭০ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন।

বিলে ২০১৬ সালের ১ জুলাই থেকে শুরু অর্থবছরের জন্য আর্থিক বিধান সম্বলিত কর ও শুল্ক প্রস্তাবের জন্য কতিপয় আইন ও বিধানের সংশোধন করা হয়েছে। তাছাড়া বিলে উল্লেখিত বিধানসমূহ ২০১৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করারও বিধান করা হয়েছে। উত্থাপিত বিলের বিভিন্ন কর প্রস্তাবের ওপর মোট ১৮টি সংশোধনী গ্রহণ করা হয়।

বিলের ওপর সরকারি দলের হুইপ শহীদুজ্জামান সরকার, গোলাম দস্তগীর গাজী, মো. শাহাবুদ্দিন, মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ, ফখরুল ইমাম, নুরুল ইসলাম মিলন, মো. নুরুল ইসলাম ওমর, বেগম নূর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরী, মো. মামুনুর রশীদ স্বতন্ত্র সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী বিলের ওপর জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধনীর প্রস্তাব আনেন। জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে প্রেরণের প্রস্তাবগুলো কন্ঠ ভোটে নাকচ হয়ে যায়।

সরকারি দলের হুইপ মো. শাহাব উদ্দিন ও শহীদুজ্জামান সরকার, সরকারি দলের গোলাম দস্তগীর গাজী ও মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর ১৮টি সংশোধনী গ্রহণ করে জাতীয় সংসদ। বাকি সংশোধনী প্রস্তাবগুলো কন্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতার সময় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদের সভাপতিত্বে থাকলেও পরে ডেপুটি স্পিকার দায়িত্ব নেন। পরে ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিযার সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশান এরশাদের উপস্থিতিতে অর্থ বিল ২০১৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়।

বুধবার সকালে বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় সংসদের সরকার দলীয় সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরী ও বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত