০১ জুলাই, ২০১৬ ০০:৪৭
বাংলাদেশে গত এক বছরে ৩০টিরও বেশি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে আইএস ও আল-কায়েদা। উদারপন্থী, নাস্তিক, বিদেশি নাগরিক এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে এই হামলা এবং বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। দেশটির ১৬ কোটি মানুষকে আরো বেশি আতঙ্কিত করে তুলেছে।
তবে পুলিশের দাবি, এ দুটি জঙ্গি সংগঠনের কোনোটাই বাংলাদেশের এ সব হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত নয়। কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, দেশে গড়ে ওঠা জঙ্গি সংগঠনগুলোই এসব হামলা চালিয়েছে। এসব সংগঠনের মধ্যে আনসার আল-ইসলামের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ২০১১ সালে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডের দায়ে সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত সাবেক মেজর জিয়াউল হক।
মনিরুল ইসলাম বলেন, সাবেক এই সেনা সদস্য ২০১১ সালের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর থেকে এ ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রয়েছেন।
এ ছাড়া বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জিয়াউল হক। তাঁকে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে পাঁচ বছর আগে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। ২০১১ সালে চাকরিচ্যুত হওয়ার পর থেকে তিনি আত্মগোপন করে আছেন। এরপর থেকে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন বিশেষ করে আনসার আল-ইসলামের সঙ্গে ওই মেজর জড়িত বলে তথ্য আছে পুলিশের কাছে।
মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কাছে প্রমাণ আছে, সাবেক এই সেনা কর্মকর্তাই এদের নেতা। তিনি আত্মগোপন করে আছেন, কিন্তু তিনি অভিজ্ঞ এবং প্রশিক্ষিত। তাঁর ক্ষমতার মাত্রাটিও আমাদের জানা। তিনি যদি আনসার আল-ইসলামের সঙ্গে থাকেন, তবে এটি জঙ্গি সংগঠনটির বড় শক্তির জায়গা।’
পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স আরো জানায়, আনসার আল-ইসলামের সঙ্গে এই রহস্যময় মেজর জিয়াউল হকের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায় ২০১৩ সালে। তখন জানা যায়, জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন মেজর জিয়াউল। এর পরে বিভিন্ন সময়ে জঙ্গি প্রশিক্ষণ এবং তাদের যুদ্ধ ও বোমা তৈরির বিষয়ে রহস্যময় এই সাবেক মেজরের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।’
আপনার মন্তব্য