সিলেটটুডে ডেস্ক

০১ জুলাই, ২০১৬ ১০:২১

গভীর রাতে ‘ক্রসফায়ারে’ ২ শিবিরকর্মী নিহত, ভোরে সেবায়েতকে কুপিয়ে হত্যা

ঝিনাইদহে ‘ক্রসফায়ারে’ ২ শিবিরকর্মী নিহতের ঘটনার কয়েক ঘন্টা না পেরুতেই খুন হলেন এক মন্দিরের সেবায়েত।

এসব ঘটনায় অনেকটাই আতংক দেখা দিয়েছে জনমনে। ‘ক্রসফায়ারে’ ২ শিবিরকর্মী নিহতের ঘটনার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই সেবাইত খুনের ব্যাপারটিও আতংকিত করছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের।

এর আগে গত ৭ জুন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের মহিষারভাগাড় এলাকায় হিন্দু পুরোহিত আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলীকে (৭০) কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

এ অবস্থায় কঠারভাবে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে সরকারের উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

জানা যায়, শুক্রবার দিনগত রাত ২টার দিকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া এলাকায় পুলিশের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' দুই শিবিরকর্মী নিহত হয়।

নিহতরা হলেন- শহিদ আল হোসেন (২৫) ও আনিসুর রহমান (২৬)। এদের মধ্যে শহিদ আল হোসেন জেলার সিদ্দিকীয়া আলিয়া মাদরাসার কামিল শেষ বর্ষের ছাত্র।

আর আনিসুরের বাড়ি কুষ্টিয়া জানা গেলেও তার বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে তারা সম্প্রতি সদর উপজেলার করাতিপাড়ায় পুরোহিত আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলি হত্যা মামলার সন্দেহভাজন এবং ছাত্রশিবিরের কর্মী ছিলেন বলে জানা গেছে।

এর কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় উত্তর কাষ্ট সাগরা গ্রামের শ্রীশ্রী রাধামদন গোপাল বিগ্রহে (মঠ)'র এক সেবায়েতকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত সেবায়েতের নাম শ্যামানন্দ দাস ওরফে বাবাজি (৫০)। তিনি উপজেলার উত্তর কাষ্ট সাগরা গ্রামের শ্রীশ্রী রাধামদন গোপাল বিগ্রহে (মঠ) কর্মরত ছিলেন। শ্যামানন্দের বাড়ি নড়াইল সদর উপজেলার মুসুরিয়া গ্রামে। তাঁর বাবার নাম নাম কিরণ চন্দ্র।

এ ব্যাপারে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান হাফিজুর রহমান গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে শ্যামানন্দকে গুরুতরভাবে জখম করে। ঘটনাস্থলে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর লাশ উদ্ধার করে সদর হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়েছে। কে বা কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

তবে এধরনের গুপ্তহত্যায় জড়িতদের গ্রেফতারে 'বিশেষ অভিযান' চলছে বলে জানান জেলা পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা।

 

আপনার মন্তব্য

আলোচিত