ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর স্মরণিকায় জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করায় বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রার ও উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার দুপুর থেকে আন্দোলন চলছে।
ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম ফেইসবুকে এক ভিডিও বার্তায় সেই দাবির সঙ্গে সহমত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “ইতিহাস সৃষ্টির সর্বশ্রেষ্ঠ স্থান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাগাজিনে যে ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে, সেটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকীর পদত্যাগ চাই, পদত্যাগ চাই, পদত্যাগ চাই।”

ঢাবি'র ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব চালিয়ে আসা রেজাউরকে ‘জামায়াতি’ আখ্যায়িত করে নাজমুল উপাচার্যের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করেছেন, “রেজাউর রহমানের মধ্যে কী মধুটা আছে, ঢাবির পোপ মহোদয় দয়া করে বলবেন কী?”
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর স্মরণিকায় ‘স্মৃতি অম্লান’ শিরোনামে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর বর্ণনা দিতে গিয়ে জিয়াউর রহমান হলের ক্ষেত্রে জেনারেল জিয়াকে ‘বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি, সাবেক সেনাপ্রধান ও মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। শুক্রবার বিষয়টি জানাজানি হলে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অনুষ্ঠান মাঝপথে স্থগিত করা হয়, উপাচার্য ওই স্মরণিকা বাজেয়াপ্ত করার ঘোষণা দেন।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ছাত্রলীগ কর্মীরা দুপুরে ভিসির বাংলোর সামনে ভাঙচুর করেন উপাচার্য আরেফিন সিদ্দিকের গাড়ি। স্মরণিকাটি প্রকাশনার দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সৈয়দ রেজাউর রহমানকে অব্যাহতির ঘোষণা আসে বিকালে।
পরে উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক এক সংবাদ সম্মেলনে এসে বলেন, “যার নামে প্রকাশনা, ওই প্রকাশনার দায় প্রাথমিকভাবে তার উপর বর্তাবে। তাকে তাৎক্ষণিক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।”
তার ওই বক্তব্যের পরও ছাত্রলীগ কর্মীরা উপাচার্যের বাসভবনের বাইরে তালা দিয়ে সেখানে অবস্থান নিয়ে তার পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকে। তাঁরা 'আরেফিন তুই রাজাকার' বলেও শ্লোগান দিতে থাকেন।
ফেইসবুক ভিডিও বার্তা দেওয়ার আগে এক পোস্টে ছাত্রলীগের গত মেয়াদের সম্পাদক নাজমুল লেখেন, “আজ কারো বিরুদ্ধে বলতে চাইনি। কিন্তু আজ না বললে যে আমার নিজেকেই আমি ক্ষমা করতে পারবো না ।
“সাড়ে চার বছর দায়িত্ব পালনে ঢাবির কর্তা ব্যক্তিদের অফিসিয়াল এলাকায় সব মিলিয়ে ১০ দিন গেছি। সবাই অবাক হবেন, অবাক হবার কিছু নেই, কর্তা ব্যক্তিদের সাথে আমার সম্পর্ক ভালো ছিলো না। কারন এই জামাতি রেজিস্ট্রার রেজাউর রহমান কে মেনে নিতে পারতাম না।”
ফেইসবুকের তথ্য অনুযায়ী শুক্রবার সিদ্দিকী নাজমুল আলমের জন্মদিন। তিনি লিখেছেন, “আজকে যেটা হয়েছে সেটা মানা যায় না। সেটা মেনে নিলে নিজের জন্মকে অস্বীকার করা হবে। নিজের মাথাটা নিজেই ফাটতে মন চাইতাছে।”
যারা ফেইসবুকে প্রতিবাদ করছেন, তাদের ওই স্মরণিকার ছবি না দিতে অনুরোধ করে নাজমুল লিখেছেন, “তাতে আরও প্রচার পাবে।”
‘লজ্জা থাকলে’ অবিলম্বে পদত্যাগ করে অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিককে ‘আদালতে আত্মসমর্পণ’ করার আহ্বান জানান সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতা।
“সোজা কথা, আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের পদত্যাগ চাই/ পদত্যাগ করেন, করেন, করেন, করেন, করেন, করেন।”
বর্তমানে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন এস এম জাকির হোসাইন। ২০১৫ সালের জুলাইয়ে তাদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ ও সিদ্দিকী নাজমুল আলম।
আপনার মন্তব্য