৩০ মার্চ, ২০১৫ ২০:০৪
পিতার কাঁধে সন্তানের লাশ এমন ঘটনায় বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন পিতা টিপু সুলতান। গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। এলাকাবাসী স্বান্তনা জানাচ্ছেন কিন্তু সন্তানহারা পরিবারের সাধ্য কই এই শোক ভুলার।
লক্ষ্মীপুরের জেলার রামগঞ্জ উপজেলার ৫নং চন্ডিপুর ইউনিয়নের উত্তর হাজীপুর গ্রামের নোয়া বাড়ির টিপু সুলতানের ছেলে ওয়াশিকুর রহমান তুষার বাবু (২৬) সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল পৌনে ১০টায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানাধীন বেগুনবাড়ির দিপিকা মোড়ে অস্ত্রধারীদের অতর্কিত হামলায় নিহত হন।
জানা যায়, নিহতের বাবা ছেলের মুত্যু সংবাদ শুনার পর থেকে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে আছেন। একমাত্র বোন আসরাফী সুলতানা সিমু কান্নাজড়িত কন্ঠে সাংবাদিকদের জানান বিশ বছর আগে আমরা মা হারাই, বাবা আমাদের ভাই-বোন দুজনকে কোলেপিঠে অনেক কষ্টে মানুষ করেন।
ছোট বেলা থেকে সে খুব মেধাবী আর শান্ত স্বভাবের ছিল। সে কোন রাজনীতিক দলের সাথে জড়িত ছিল না, শুনেছি ব্লগে একটু লেখালেখি করত, এজন্য জামাত-শিবির অথবা জঙ্গি সংগঠনের কেউ এ হত্যা করতে পারে। এ ছাড়া আমার ভাইয়ের কোন শত্রু ছিল না।
এলাকাবাসী জানান, ওয়াশিকুর রহমান ২০০৪ সালে উপজেলার চন্ডিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে থেকে এসএসসি, তেজগাঁও কলেজ থেকে এইচ এস সি, জাতীয় বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাষ্টার্স পাশ করে ঢাকাস্থ মতিঝিল ফারইস্ট ট্রাভেলস এ্যভিয়েশনে কর্মরত ছিলেন।
তার আচরণ খুব ভাল ছিল, তার সাথে কখনও কারো মতানৈক্য হয়নি। এ রকম ছেলেকে মেরে ফেলা মেনে নেওয়া কষ্টকর।
উল্লেখ্য, ব্লগার, লেখক, গবেষক ড. অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের পর যারা প্রতিবাদী অবস্থান নিয়েছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম ব্লগার ওয়াশিকুর বাবু।
হত্যাকারি জিকরুল্লাহ চট্টগ্রামের হাটহাজারি মাদ্রাসার ছাত্র এবং হাটহাজারি মাদ্রাসা হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা আহমেদ শফীর, যারা ২০১৩ সালে তাদের ভাষায় নাস্তিকদের বিরুদ্ধে ঢাকায় লংমার্চ করেছিলেন। অপর হত্যাকারি আরিফুল ইসলাম মিরপুরের দারুল উলুম মাদ্রাসার ছাত্র- এই মাদ্রাসাও হেফাজতে ইসলামের আখড়া বলে চিহ্নিত।
আপনার মন্তব্য