নিউজ ডেস্ক

৩১ মার্চ, ২০১৫ ২১:৪৮

ওয়াশিকুর হত্যা: সাম্প্রতিক ছবি ছিল না, খুনিরা চিনলো কীভাবে?

ব্লগার ও অনলাইন এক্টিভিস্ট ওয়াশিকুর রহমান বাবু’র হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিল একাধিক জঙ্গি। তাদের মধ্যে দুইজন পালিয়ে যাওয়ার সময় ধরা পড়েছে। অপর একজন ভীড়ের মধ্যে পালিয়ে যেতে সমর্থ হয়।

খুনি জিকরুল্লাহ ও আরিফুল ইসলামের প্রাথমিক স্বীকারোক্তি অনুযায়ি জানা যায়- তারা তাদের ‘হুজুর’দের নির্দেশে খুন করে ঈমানি দায়িত্ব পালন করেছে।

জিজ্ঞাসাবাদে খুনিরা জানিয়েছিল- "ব্লগ কি বুঝি না, আর তার লেখাও আমরা দেখিনি। হুজুরের পরামর্শ, সে ইসলামবিরোধী। তাকে হত্যা করা ঈমানি দায়িত্ব। আর সেই ঈমানি দায়িত্ব পালন করতে ওয়াশিকুরকে হত্যা করেছি’'।

মামলার এজাহারে চারজনকে আসামি করা হয়েছে। যার মধ্যে খুনি জিকরুল্লাহ ও আরিফুলের সঙ্গে অংশ নেয় তাহের নামের একজন। তাদেরকে ছবি দেখিয়ে চিনিয়ে দেওয়ার কাজ করে মাসুম নামের এক হুজুর।

ওয়াশিকুর রহমান ব্লগ ও ফেসবুকে লিখতেন কিন্তু সচরাচর তিনি তাঁর ছবি আপলোড করতেন না বলে জানিয়েছেন তাঁর ফেসবুক বন্ধুরা। এমন পরিস্থিতিতে খুনিরা কীভাবে ছবি সংগ্রহ করেছে এবং কীভাবে চিনিয়ে দেওয়ার কাজ করেছে এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে।

আগে এক সময় ছবি দিলেও অনেক দিন ধরে কোথাও ছবি দিচ্ছিলেন না। ফলে খুব সহজে তাঁর ছবি পাওয়া সম্ভব ছিল না। ধারণা করা হয়, খুনিরা অনেক দিন আগে থেকেই এ বিষয়ে প্ল্যান করছিল এবং তারা আগে থেকেই সেগুলো সংগ্রহ করে রেখেছিল। তাছাড়া অনেক আগের ছবির সাথে সাম্প্রতিক সময়ের ছবির মধ্যে হুবহু মিল থাকাটা স্বাভাবিকই ছিল না। 

এদিকে, খুনিদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ি মাসুম নামের 'হুজুর' তাদেরকে আগের দিন চিনিয়ে দিয়েছিল!

ওয়াশিকুর অনলাইনে তাঁর ছবি না দিলেও অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিজে উপস্থিত থাকতেন। শাহবাগের গণজাগরণ আন্দোলনের সময় নিয়মিত যাতায়াত ছিল শাহবাগে, এছাড়াও মাঝে মাঝে ছবির হাটের আড্ডায়ও তাঁর উপস্থিতি থাকত ।

সর্বশেষ অভিজিৎ রায়ের হত্যাকাণ্ডের পর বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি উপস্থিত ছিলেন ফলে খুনিদের পক্ষে সম্ভব হয়েছে তাঁর ছবি সংগ্রহ।

খুনিদের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ছিল ওয়াশিকুর বাবুর হত্যাকাণ্ড। অনলাইন মাধ্যমে ছবি না থাকলেও তারা সংগ্রহ করেছিল বিভিন্ন মাধ্যম থেকে। এই মাধ্যমগুলো আসলে কী কী এ নিয়েও ভাবিয়ে তুলছে সবাইকে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত