০২ এপ্রিল, ২০১৫ ২৩:১০
বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলীর গান গাওয়ার বিষয়ে খ্যাতি থাকলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সে-রকম দেখা যায়নি। কিন্তু আজ, একই অনুষ্ঠানে গান গাইলেন প্রধানমন্ত্রী ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী। তার সঙ্গে যুক্ত হলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন।
আজ বৃহস্পতিবার অষ্টম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে এই তিনজন গান গেয়ে শোনান।
সমাজকল্যাণ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নীল বাতি (অটিজমের রং) জ্বেলে দিবসের উদ্বোধনী বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী। তিনি বক্তব্য শেষে ‘আমরা করব জয়’ গানটির কিছু অংশ গেয়ে শোনান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীও তার সঙ্গে সুর মেলান।
অনুষ্ঠানের ধন্যবাদ পর্বে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিনও বক্তব্য শেষে গারো ভাষায় একটি গান গেয়ে শোনান। পরে প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে ‘প্রভুর সেবা’ নিয়ে একটি গান গেয়ে শোনান তিনি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অটিস্টিক শিশুদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন ও শিশুদের সঙ্গে ছবি তোলেন।
অটিজম বা কল্পমগ্ন রোগের কোনও সুনির্দিষ্ট কারণ এখন বের করা যায়নি। তবে পরিচর্যার মধ্যে রাখলে অটিজম আক্রান্তরাও সক্ষম ব্যক্তির মতোই কাজ করতে পারেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব বলছে বিশ্বের প্রতিবন্ধীদের ৮০ ভাগ বাস করেন বাংলাদেশের মত তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে। তাই সরকারের তরফ থেকে তাগিদ রয়েছে অটিস্টিকদের উন্নয়নের মূল স্রোতে সামিল করার।
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অষ্টম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবসের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী বললেন, প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশে দুটি আইন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ‘তাদের ভেতরের সুপ্ত প্রতিভাগুলোকে বিকশিত করার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম আমরা হাতে নিয়েছি। এগুলো যখন বাস্তবায়ন হবে তখন এই প্রতিবন্ধী শিশুরা সমাজে আর বোঝা হয়ে থাকবে না বরং তারাই আমাদের সম্পদ হবে। ‘
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবন্ধীদের যোগ্যতা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি না করা গেলে তাদের উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করা যাবে না। তিনি বলেন, ‘তারা যাতে চাকুরীর সুযোগ পায়, সেই ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। তাদের ভেতরে একটি সুপ্ত প্রতিভা থাকে। বিশেষ কোনো ক্ষেত্রে তারা পারদর্শী হয়। সেটি খুঁজে বের করে যদি বিকশিত হতে দেয়া যায় তবে দেখা যাবে তারা সমাজে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশাল অবদান রাখতে পারবে।
অনুষ্ঠান শেষে অটিস্টিক শিশুদের সাথে বেশ কিছুটা সময় কাটান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আপনার মন্তব্য