প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চে রোববার এই আবেদনের শুনানি হয়। সকাল পৌনে ১০টা থেকে শুরু করে মাঝে আধা ঘণ্টা বিরতি দিয়ে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত দুই পক্ষের বক্তব্য শোনেন বিচারকরা।
কামারুজ্জামানের পক্ষে খন্দকার মাহববু হোসেন ও রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলাম শুনানিতে অংশ নেন। পরে রায়ের জন্য সোমবার দিন ঠিক করে দেয় আপিল বেঞ্চ। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী। গতবছর ৩ নভেম্বর আপিল বিভাগের এই বেঞ্চই কামারুজ্জামানকে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ফাঁসির রায় বহাল রাখে। রিভিউ আবেদনের শুনানিতে অংশ নেওয়ার আগে শনিবার কামারুজ্জামানের আইনজীবীরা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ নেন।
শেরপুরের নালিতাবাড়ি উপজেলার সোহাগপুরে ১২০ জন পুরুষকে ধরে নিয়ে হত্যার দায়ে একাত্তরে ময়মনসিংহের আল বদর নেতা কামারুজ্জামানকে সর্বোচ্চ সাজার আদেশ দেয় সর্বোচ্চ আদালত । এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কামারুজ্জামানকে ফাঁসির রায় এসেছিল ২০১৩ সালের ৯ মে। আপিলের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের পর ট্রাইব্যুনাল কামারুজ্জামানের মৃত্যু পরোয়ানা জারি করলেও আসামির আইনজীবীরা গত ৫ মার্চ রিভিউ আবেদন করলে সেই পরোয়ানার কার্যকারিতা স্থগিত হয়ে যায়। আসামিপক্ষের সময়ের আবেদনে দুই দফা তারিখ পেছানোর পর রোববার আবারও ওই রিভিউ আবেদন আপিল বিভাগে ওঠে। রিভিউ খারিজ হয়ে গেলে নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারবেন এই যুদ্ধাপরাধী।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামান হলেন দ্বিতীয় ব্যক্তি, যার সর্বোচ্চ সাজার রায় কার্যকরের আগে রিভিউয়ের পর্যায়ে এসেছে।
আপনার মন্তব্য