০৬ এপ্রিল, ২০১৫ ০৯:৪১
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল যুদ্ধাপরাধী মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর ফলে তাকে দেওয়া ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ চূড়ান্তভাবে বহাল থাকলো। কাজেই ফাঁসি দড়িতেই ঝুলবেন একাত্তরের ঘাতক কামারুজ্জামান। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে রিভিউয়ের এ রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে রোববার কামারুজ্জামানের আবেদনের ওপর প্রায় দুই ঘণ্টা শুনানি হয়। কামারুজ্জামানের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন খন্দকার মাহবুব হোসেন, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলাম।
কামারুজ্জামানের পক্ষে খন্দকার মাহববু হোসেন ও রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলাম শুনানিতে অংশ নেন। পরে রায়ের জন্য সোমবার দিন ঠিক করে দেয় আপিল বেঞ্চ। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী। গতবছর ৩ নভেম্বর আপিল বিভাগের এই বেঞ্চই কামারুজ্জামানকে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ফাঁসির রায় বহাল রাখে। রিভিউ আবেদনের শুনানিতে অংশ নেওয়ার আগে শনিবার কামারুজ্জামানের আইনজীবীরা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ নেন।
শেরপুরের নালিতাবাড়ি উপজেলার সোহাগপুরে ১২০ জন পুরুষকে ধরে নিয়ে হত্যার দায়ে একাত্তরে ময়মনসিংহের আল বদর নেতা কামারুজ্জামানকে সর্বোচ্চ সাজার আদেশ দেয় সর্বোচ্চ আদালত । এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কামারুজ্জামানকে ফাঁসির রায় এসেছিল ২০১৩ সালের ৯ মে। আপিলের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের পর ট্রাইব্যুনাল কামারুজ্জামানের মৃত্যু পরোয়ানা জারি করলেও আসামির আইনজীবীরা গত ৫ মার্চ রিভিউ আবেদন করলে সেই পরোয়ানার কার্যকারিতা স্থগিত হয়ে যায়।
আসামিপক্ষের সময়ের আবেদনে দুই দফা তারিখ পেছানোর পর রোববার আবারও ওই রিভিউ আবেদন আপিল বিভাগে ওঠে। সেই রিভিউ আজ খারিজ হয়ে যাওয়ায় কামারুজ্জামানের দণ্ড কার্যকরের আর কোন বাঁধা রইল না। তবে কামারুজ্জামান নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা ভিক্ষার সুযোগ পাবেন বলে জানান তিনি। যুদ্ধাপরাধী এই জামায়াত নেতা সেই সুযোগ নেবেন কি-না, তা স্পষ্ট করেননি তার আইনজীবীরা।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামান হলেন দ্বিতীয় ব্যক্তি, যার সর্বোচ্চ সাজার রায় কার্যকরের পর্যায়ে এল। এর আগে ২০১৩ সালে ১২ ডিসেম্বর যুদ্ধাপরাধী আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
আপনার মন্তব্য