সিলেটটুডে ডেস্ক

০৬ এপ্রিল, ২০১৫ ১৭:১৪

প্রস্তুত কারা কর্তৃপক্ষ : রাতেই কার্যকর হতে পারে ফাঁসি!

কখন হতে যাচ্ছে ফাঁসির রায় কার্যকর? রাত ১২টা ১মিনিটে? নাকি এর আগে অথবা এর পর? এমন প্রশ্ন ঘুরছে সবখানে। তবে কারা কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি বলছে আজ রাতেই হতে যাচ্ছে ফাঁসি কার্যকর। ফলে দীর্ঘ ৪৪ বছরের কলঙ্কমোচন থেকে বাঙালি হয়ত দূরে আছে মাত্র কয়েক ঘণ্টা দূরত্বে! এ কলঙ্কমোচন সর্বশেষ নয়; ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মাত্র দুই ধাপ।

এর আগে ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর যুদ্ধাপরাধী আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম কোন যুদ্ধাপরাধীর সাজা কার্যকর! কামারুজ্জামান হতে যাচ্ছেন এ প্রক্রিয়ার দ্বিতীয়! ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সার্বিক প্রস্তুতি বলছে কারা কর্তৃপক্ষ পুরোপুরি প্রস্তুত। কারা অভ্যন্তরে পৌঁছে গেছে অ্যাম্বুলেন্স, কফিনও আর প্রস্তুত আছে সম্ভাব্য জল্লাদেরাও।

নেওয়া হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও! এর আগে বেশ ক’বার ফাঁসির রিহার্সালও সম্পন্ন করে রেখেছে কারা কর্তৃপক্ষ। সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে রিভিউয়ের আপীল খারিজ হয়ে যাওয়ার পর কেবল সমীক্ষণের অপেক্ষা। এর মধ্যে অবশ্য রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষার আবেদনের সুযোগ আছে কিন্তু সে জন্যে দীর্ঘ সময়ের সরকার হয় না।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন প্রানভিক্ষার জন্যে কয়েক ঘণ্টা সময় হাতে আছে তার, যা ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ যুদ্ধাপরাধী কামারুজ্জামানের পরিবারের কাছে আনুষ্ঠানিক পত্র পাঠিয়েছে বিকেল পাঁচটার মধ্যে দেখা করতে। এটাই তাদের শেষ দেখা। রীতি অনুযায়ী কারা কর্তৃপক্ষ এমন চিঠি দেওয়ার পর কয়েক ঘণ্টা লাগে ফাঁসি কার্যকরের। সে হিসেবে আজ দিবাগত রাতেই হতে যাচ্ছে যুদ্ধাপরাধী কামারুজ্জামানের ফাঁসি। সোমবার বিকেল পর্যন্ত কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে তাদের কাছে এখনও আনুষ্ঠানিক নির্দেশ আসেনি।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার নেছার আলম বলেন, অনুমতি পেলেই আমরা দ্রুত প্রস্তুতি নেব। স্বল্প সময়ের মধ্যে ফাঁসি কার্যকর করতে কোনও অসুবিধা হবে না বলে জানান তিনি। এদিকে কেন্দ্রীয় কারাগারের এক নিম্নমান সহকারী সূত্রে জানা গেছে, কারাগারের ভেতরে চলছে ফাঁসি কার্যকরের প্রস্তুতি।

সরকারি নির্দেশ আসার পর যেন বিলম্ব না হয় সেজন্য কারা কর্তৃপক্ষ সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ করে ফেলেছে। ইতোমধ্যে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে কারাগারের ভেতরে কফিনও পাঠানো হয়েছে। ফাঁসির মঞ্চও প্রস্তুত করে ফেলা হচ্ছে, এর ওপরে চলছে সামিয়ানা টানানোর কাজ। আর পুরো কাজটিই হচ্ছে কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করে। পাশাপাশি কারাগার ও এর আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে, কামারুজ্জামানের বড় ছেলে হাসান ইকবাল তার ফেসবুক স্ট্যাটাসেও লিখেছেন, “. . . জেল কর্তৃপক্ষ থেকে চিঠি পেয়েছি। আমাদের বাবা মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের সাথে শেষবারের মতো দেখা করার জন্য।” এর আগে, সকালেই অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, এরপর ‘যৌক্তিক' সময়ের মধ্যে প্রাণ ভিক্ষা করতে পারেন কামারুজ্জামান। সেটা না করলে সরকারের সিদ্ধান্তে যেকোনো সময়ই কার্যকর হতে পারে ফাঁসির আদেশ। আর আসামি পক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেছিলেন তারা সাক্ষাৎ করে এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা নিয়ে আসবেন। যদিও আবেদনের পর কারা কর্তৃপক্ষ তাদের টেলিফোনে জানিয়ে দেন, দেখা করা যাবে না কামারুজ্জামানের সাথে।

তবে একই সাথে কামারুজ্জামানের পরিবারের সদস্যদেরকে কারাগারে বিকেল পাঁচটার ভেতরই দেখা করতে বলা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তাদের মানসিক প্রস্তুতি নেওয়া আছে। এবং তারা পারিবারিক ভাবে শেরপুরে দাফন সম্পন্ন করার প্রাথমিক সিদ্ধান্তও নিয়ে রেখেছেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত