ডেস্ক রিপোর্ট

০৮ এপ্রিল, ২০১৫ ১৪:৪২

উলফা নেতা রঞ্জন ও প্রদীপের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে ভারতের দুই নাগরিকের দণ্ড দিয়েছেন কিশোরগঞ্জের এক আদালত।

ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসামের (উলফা) নেতা রঞ্জন চৌধুরী ও তার সহযোগী প্রদীপ মারাককে অস্ত্র ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের দুই মামলায়। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে কিশোরগঞ্জের একটি আদালত।

রঞ্জন চৌধুরী ওরফে মেজর রঞ্জনের সাজার আদেশ হয়েছে অস্ত্র ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের দুই মামলায়। অস্ত্র মামলায় খালাস পেলেও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ওই সাজা হয়েছে প্রদীপ মারাকের।

২০১০ সালে ভৈরবে গ্রেপ্তার দুই আসামির উপস্থিতিতে কিশোরগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ মাহবুবুল ইসলাম বুধবার (৮ এপ্রিল) এই রায় ঘোষণা করেন।

উলফা নেতা রঞ্জন ও তার সহযোগী প্রদীপকে ২০১০ সালের ১৭ জুলাই কিশোরগঞ্জের ভৈরবের লক্ষ্মীপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি রিভলবার, গুলি ও চারটি গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়েছিল।

র‍্যাব-৯ ভৈরব ক্যাম্পের উপ সহকারী পরিচালক (ডিএডি) করিম উল্লাহ ওইদিনই অস্ত্র, বিস্ফোরক, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে চারটি মামলা দায়ের করেন।

এর মধ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলাটি ছাড়া বাকি তিন মামলায় পরের বছর ৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ওই বছর ৩ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে কিশোরগঞ্জের আদালতে রঞ্জন ও প্রদীপের বিচার শুরু হয়।  সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অস্ত্র ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলার রায়ের জন্য ৮ এপ্রিল দিন ঠিক করে দেন বিচারক।

ওই দুইজনকে গ্রেপ্তারের পর র‍্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ১৯৮৮ সালে উলফা নেতা অবিনাশ অধিকারী ও দিগন্ত দাসের মাধ্যমে রঞ্জন চৌধুরী এই বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনে যুক্ত হন। ১৯৯০ সালে আসামের গোয়ালপাড়া ও মেঘালয় এলাকায় তিন মাসের সামরিক প্রশিক্ষণ নেওয়ার পাঁচ বছরের মাথায় ধুবড়ী জেলা উলফার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান তিনি। সামরিক প্রশিক্ষণে দক্ষ বলে তাকে ডাকা হয় ‘মেজর রঞ্জন’ বলে।

এই উলফা নেতা রঞ্জন সিসিম, প্রদীপ রায়, দ্বীপ জ্যোতি, রঞ্জু বাড়ৈ, মাসুদ চৌধুরী নামেও বিভিন্ন সময়ে কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন।

রঞ্জনের বাড়ি ভারতের আসামে ধুবরীর গৌরীপুরের মধু শৌলমারি এলাকায়। ১৯৯৫ সালে নিজের দেশে একবছর কারাভোগ শেষে তিনি বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন এবং উলফার সামরিক প্রধান পরেশ বড়ুয়ার নির্দেশনা অনুযায়ী শেরপুরের ঝিনাইগাতির গজনীতে অবস্থান নিয়ে ১৯৯৭ সাল থেকে কার্যক্রম চালাতে থাকেন বলে সে সময় র‍্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়।

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের স্বাধীনতার লক্ষ্যে ১৯৭৯ সালে গঠিত হয় উলফা। এরপর দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সশস্ত্র তৎপরতা চালায় সংগঠনটি।

 

আপনার মন্তব্য

আলোচিত