ডেস্ক রিপোর্ট

০৯ এপ্রিল, ২০১৫ ১৪:৫০

যৌক্তিক সময় মানে সাতদিন নয়; অ্যাটর্নি জেনারেল

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কামারুজ্জামানের রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে যৌক্তিক সময় চাওয়ার বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, যৌক্তিক সময় মানে সাতদিন নয়। কারাবিধিতে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার সময়সীমা সাতদিন হলেও এক্ষেত্রে কারাবিধি প্রযোজ্য নয়।

তিনি বলেন, যৌক্তিক সময় মানে প্রাণভিক্ষার আবেদন করতে যতোটুকু সময় লাগে সেটিকেই বোঝায়। তার মতে, যৌক্তিক সময় মানেই সাতদিন, এটাতো হতে পারে না। 

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল। যথাদ্রুত সম্ভব এবং আজকের মধ্যেই প্রাণভিক্ষা চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 

এর আগে বেলা পৌনে ১২টার দিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে সাক্ষাৎ শেষে কামারুজ্জামানের আইনজীবীরা সাংবাদিকদের বলেন, প্রাণভিক্ষার বিষয়ে কামারুজ্জামান যৌক্তিক সময় নিতে চেয়েছেন।

আইনজীবীরা বলেন, প্রাণভিক্ষা চাইবেন কি-না সে সিদ্ধান্ত তিনি নিজেই নেবেন। এ বিষয়ে তিনি ভাবনা-চিন্তা করবেন এবং পরে তার সিদ্ধান্ত জানাবেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধীদের ক্ষেত্রে জেলকোড প্রযোজ্য হবে না। তাই এখানে সাতদিনের প্রসঙ্গ আসে না।

প্রাণভিক্ষা করার নির্দিষ্ট সময়সীমা আইনে বেধে দেওয়া হয়নি বলে জানিয়ে তিনি জানান, সেটা দ্রুততম সময়ের মধ্যে করতে হবে। জেল কর্তৃপক্ষ রিভিউয়ের রায় তাকে পড়ে শুনিয়ে সঙ্গে সঙ্গে জানতে চেয়েছেন, তিনি ক্ষমা ভিক্ষা করবেন কি-না। আসামি সেটি জানাতে কিছুটা সময় নিতে চেয়েছেন, তবে খুব বেশি দেরি করার সুযোগ নেই।

মাহবুবে আলম জানান, যদি তিনি প্রাণভিক্ষা না করেন অথবা করলেও তা নামঞ্জুর হয়, তবে সরকারের পক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ফাঁসির দিনক্ষণ ঠিক করে দিলে জেল কর্তৃপক্ষ তা কার্যকর করবে।

তবে প্রাণভিক্ষা করা হলে রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত না জানা অথবা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসি কার্যকর করা যাবে না বলেও জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।

রায় এখন কিভাবে কার্যকর করা হবে সে প্রশ্নে রাষ্ট্রের এই সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা আবারও বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন’১৯৭৩ এর ২০(৩) ধারা অনুসারে সরকার সে ব্যবস্থা নেবে।     

রায় কার্যকরের বিষয়টি এখন সম্পূর্ণভাবে সরকারের ওপর নির্ভরশীল বলেও জানান তিনি। তার মতে, মানবতাবিরোধী অপরাধীদের ক্ষেত্রে জেলকোড প্রযোজ্য হবে না। তাই সরকারের পক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের ওপর ফাঁসির দিনক্ষণ নির্ভর করছে।

এর আগে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও বলেছেন, কামারুজ্জামান প্রাণভিক্ষার জন্য আবেদন করলে করতে হবে আজকের মধ্যেই। অন্যথায় রায় দ্রুত কার্যকর করবে সরকার। তিনি প্রাণভিক্ষার আবেদন জানালে তা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে। 

প্রাণভিক্ষা করবেন কি-না তা জানতে কিছু সময়ের মধ্যে কারাগারে গিয়ে কামারুজ্জামানের সঙ্গে ঢাকার জেলা প্রশাসক (জেলা ম্যাজিস্ট্রেট) দেখা করবেন বলেও জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। 

আপনার মন্তব্য

আলোচিত