নিউজ ডেস্ক

২০ এপ্রিল, ২০১৫ ০৫:০৭

যৌনসন্ত্রাসীদের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, তবুও খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ!

পহেলা বৈশাখের নারী নিপীড়ক যৌনসন্ত্রাসীদের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ গণমাধ্যমের সর্বত্র থাকলেও পুলিশ তাদের এখনও খুঁজে পাচ্ছে না। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম হয়েছে সর্বত্র। প্রশাসনের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। 

পয়লা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সারা দেশে ছাত্র-শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। দিন দিন এই বিক্ষোভের মাত্রা বাড়ছে। 

বর্ষবরণ উৎসবে ঢাবির টিএসসিতে অন্তত ১৫ জন নারী লাঞ্ছিতের ঘটনার ছয় দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার বা চিহ্নিত করতে পারেনি পুলিশ। ইতিমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক ও গণমাধ্যমে নারীদের লাঞ্ছনাকারীদের ছবি প্রকাশিত হলেও পুলিশ তাদের খুঁজে পাচ্ছে না! 

যদিও এ ঘটনায় শাহবাগ থানা পুলিশের এসআই আশরাফুল আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এদিকে নববর্ষে ঢাবির টিএসসি এলাকায় নারী নির্যাতনের ঘটনা যেভাবে প্রচার করা হচ্ছে, তা অনুসন্ধানেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া।

বিভিন্ন সামাজিক ও গণমাধ্যমে ঢাবিসহ বিভিন্ন স্থানে নারীর শ্লীলতাহানির ঘটনায় দুর্বৃত্তদের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। এমনকি সামাজিক গণমাধ্যমেও ভিডিও ফুটেজ ছাড়া হয়েছে। স্থির ছবিসহ এসব ভিডিও ফুটেজে দুষ্কৃতকারীদের ছবি স্পষ্ট বোঝা গেলেও তাদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

অনেকে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা বলছেন, এ ঘটনায় গোটা জাতি ব্যথিত ও মর্মাহত। তারা এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। এমনকি ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুষ্কৃতকারীদের কঠোর শাস্তি দাবি করে আসছে।

এদিকে, একটি টেলিভিশনে নারী নিপীড়কদের নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর প্রতিবেদক ফারজানা রূপাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে সন্ত্রাসীরা।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা রোববার ঢাবির টিএসসি এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও তদন্ত কমিটির প্রধান মোহাম্মদ ইব্রাহিম ফাতেমীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলে ছিলেন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার ওয়াই এম বেলালুর রহমান ও উপপুলিশ কমিশনার জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর।

পরিদর্শন শেষে মোহাম্মদ ইব্রাহিম ফাতেমী সাংবাদিকদের বলেন, আমরা ভিডিও ফুটেজ দেখেছি। ওই দিন নারীর শ্লীলতাহানির মতো কোনো ঘটনা ঘটেছে কিনা কিংবা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা আমরা খতিয়ে দেখছি। পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের মধ্যে দায়িত্বে কোনো অবহেলা ছিল কিনা তাও আমরা দেখছি।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সিরাজুল ইসলাম জানান, ছাত্র ইউনিয়নের ছেলেরা বলছেন, তারা এক যৌন নিপীড়ককে ধরে এসআই আশরাফুল আলমের কাছে সোপর্দ করেছেন। গত বুধবার তাকে প্রত্যাহার করা হয়। তার বিরুদ্ধে তদন্ত হচ্ছে।

ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, অনেক পত্রিকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং থার্টিফার্স্ট নাইটের ঘটনার ছবি পয়লা বৈশাখের বলেও প্রচার করেছে। ওই দিনের সিসিটিভির ক্যামেরায় ধরা ভিডিও ফুটেজে মিডিয়ায় প্রচার করা প্রতিবেদনের সঙ্গে মিলে না।

এ ছাড়াও পয়লা বৈশাখে টিএসসি এলাকায় যৌন নিপীড়নের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে শাহবাগ থানা ঘেরাও করেছে বিক্ষুব্ধরা। রোববার বিকালে বিক্ষোভ সমাবেশ ও সন্ধ্যায় মশাল মিছিল করেছে গণজাগরণ মঞ্চ। ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন।

রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা অনুষদের সামনে যৌন নিপীড়ন ঘটনার প্রতিবাদে সমাবেশ করে। সমাবেশ শেষে তারা শাহবাগ থানা ঘেরাও করে। পরে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের গ্রেফতারে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে ঘেরাও কর্মসূচি শেষ করে। নিপীড়নকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে ঢাবি ক্যাম্পাসে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট এবং ছাত্র ফেডারেশন বিক্ষোভ মিছিল করে। দুপুর ১টার দিকে দোয়েল চত্বরে মুখে কালো কাপড় বেঁধে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী মানববন্ধন করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ বিভিন্ন স্থানে নারীদের যৌন হয়রানির ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্র ইউনিয়ন ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহবাগ ছাড়াও সিলেটসহ দেশের অন্যান্য স্থানে এই ঘটনার প্রতিকারের দাবিতে মিছিল, সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক সরগরম রয়েছে এই ইস্যুতে। নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে মানবিক দ্রোহের ডাক দিয়ে পালটা আঘাত হানার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ফেসবুকে বিভিন্ন এক্টিভিস্টরা তাদের নিয়মিত এক্টিভিজমের মধ্যে নারীর প্রতি এই নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত