সিলেটটুডে ডেস্ক

২৮ এপ্রিল, ২০১৫ ০১:৩৬

পুঁজিবাজারে ষষ্ঠ দিনে দরপতন থেমেছে

টানা দরপতনে অধিকাংশ শেয়ারের দর কমার পর ক্রয়াদেশ সামান্য বেড়েছে। এতে টানা পাঁচদিনের দরপতনের ধারা কাটিয়ে উঠেছে দেশের উভয় শেয়ারবাজার। লেনদেন হওয়া কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধি ও হ্রাসে তেমন পার্থক্য না থাকলেও বড় মূলধনি কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দরবৃদ্ধিতে সূচক বেড়েছে। তবে ধারণ করা অনেক শেয়ারের কাঙ্ক্ষিত দর না পাওয়ায় অধিকাংশ বিনিয়োগকারী কেনাবেচায় নিষ্ক্রিয় ছিলেন। ফলে কমেছে লেনদেন।

পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, পাঁচদিনের ধারাবাহিকতায় গতকালও লেনদেনের শুরুতে বেশির ভাগ শেয়ারের দরপতনে নিম্নমুখী ছিল সূচক। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী কম দরে শেয়ার কেনার সুযোগ নেয়ায় চিত্র পাল্টে যেতে থাকে। এতে হারানো মূল্যসূচক পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি কিছু বাড়তি পয়েন্ট যোগ হয়। কিন্তু সদ্য তালিকাভুক্ত বিএসআরএম লিমিটেডের লেনদেন শুরু হওয়ায় সার্বিক কেনাবেচায় আবারো নেতিবাচক প্রভাব দেখা দেয়। বিনিয়োগকারীরা অন্য শেয়ার বিক্রি করে বাজারে নতুন আসা এ শেয়ার কেনায় সার্বিক বিক্রয় চাপ বেড়ে যায়। দুপুর ১২টায় সূচক ১০ পয়েন্ট কমে যায়। তবে এ প্রবণতা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। শেষ পর্যন্ত সূচকে বাড়তি পয়েন্ট যোগ করে দিনের লেনদেন শেষ হয়।

আগের দিনের বড় দরপতনের পর সোমবারের সামান্য এ ঊর্ধ্বগতিকে স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অনেক শেয়ারের দর আকর্ষণীয় অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছেন বিচক্ষণ বিনিয়োগকারীরা। এর প্রভাব গতকালের বাজারচিত্রে দেখা যায়।

তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিনিয়োগকারীদের মধ্যেই নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা রয়ে গেছে। সূচক ঘুরে দাঁড়িয়েছে— এটিও দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে পারছেন না তারা। এর প্রভাব পড়েছে কেনাবেচায়।

এ প্রসঙ্গে একজন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী বলেন, ‘টানা কয়েক দিন পতনের পর সূচক সামান্য বাড়ায় আশাবাদী হয়ে তিন-চার মাসে কয়েক দফা লোকসান করেছি। এখন আর ঝুঁকি নেয়ার সাহস পাচ্ছি না।’

সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কেনাবেচা হয়েছে ৩২৩ কোটি ৪০ লাখ টাকার, যা আগের দিনের চেয়ে ১৮ কোটি ১১ লাখ টাকা কম। অথচ আগের সপ্তাহের একাধিক কার্যদিবসে ডিএসইর কেনাবেচা সাড়ে ৫০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছিল। সোমবার অবশ্য দেশের অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) কেনাবেচা কিছুটা বেড়েছে। গতকাল সিএসইতে ৪২ কোটি ৪ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ৯ কোটি ১৮ লাখ টাকা বেশি।

সোমবার ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩০৮টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৪০টির, কমেছে ১৩৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৪টি কোম্পানির শেয়ারের। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২১৬টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দাম বেড়েছে ৯৩টির, কমেছে ৯৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৪টি কোম্পানির শেয়ারের।

গতকাল বড় মূলধনি কোম্পানিতে বিনিয়োগকারীর আগ্রহ বেশি দেখা গেছে। এতে এসব কোম্পানির গড় মূল্য ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। সূচকে প্রভাব বিস্তারকারী গ্রামীণফোন, বিএটিবিসি, স্কয়ার ফার্মাসহ বিভিন্ন কোম্পানির দরবৃদ্ধিতে গতকাল ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের কার্যদিবসের চেয়ে ২৪ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ১১৮ দশমিক ৪৮ পয়েন্ট ও ডিএস-৩০ মূল্যসূচক ৯ দশমিক ৬৬ পয়েন্ট বেড়ে ১৫৬৭ দশমিক ৮০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। গতকাল সিএসইর সার্বিক সূচক ৭০ পয়েন্ট বেড়ে ১২ হাজার ৬৭০ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। এছাড়া নির্বাচিত কোম্পানিগুলোকে নিয়ে তৈরি সিএসই-৩০ সূচকটি বেড়েছে ৮১ পয়েন্ট।

খাতওয়ারি পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল সবচেয়ে বেশি বাজার মূলধন বেড়েছে টেলিযোগাযোগ খাতের। সর্বাধিক ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বাজার মূলধন বাড়ায় গতকালের দরবৃদ্ধির শীর্ষস্থানে রয়েছে খাতটি। এছাড়া সিরামিক, খাদ্য ও অনুষঙ্গ, ব্যাংক, বীমা, বস্ত্র ও সিমেন্ট খাতের বাজার মূলধন বেড়েছে। বিপরীতে বিবিধ, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, প্রকৌশল ও সেবা খাত বাজার মূলধন হারিয়েছে।

সোমবার ডিএসইতে লেনদেনের ভিত্তিতে (টাকায়) প্রধান ১০টি কোম্পানি হলো— বিএসআরএম লিমিটেড, ইউনাইটেড পাওয়ার, এমজেএল বিডি, এসিআই লিমিটেড, কেপিসিএল, শাহজিবাজার পাওয়ার, ওয়েস্টার্ন মেরিন, স্কয়ার ফার্মা, গ্রামীণফোন ও ব্র্যাক ব্যাংক।

‘জেড’ ক্যাটাগরি ছাড়া দরবৃদ্ধির শীর্ষে প্রধান ১০টি কোম্পানি হলো— বিএসআরএম লিমিটেড, জেমিনী সি ফুড, এইমস প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড, প্রভাতি ইন্স্যুরেন্স, ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স, আইএফআইএল ইসলামি মিউচুয়াল ফান্ড-১, অলিম্পিক ইন্ডা., এশিয়া ইন্স্যুরেন্স, গ্রীনডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ড ও আইসিবি দ্বিতীয় এনআরবি।

অন্যদিকে দাম কমার শীর্ষে প্রধান ১০টি কোম্পানি হলো— সমতা লেদার, নিটল ইন্স্যুরেন্স, ইউনাইটেড পাওয়ার, ন্যাশনাল ফিডস, জাহিন স্পিনিং, লিবরা ইনফিউশন, রহিমা ফুড, ইউনাইডেট ইন্স্যুরেন্স, শমরিতা হাসপাতাল ও মাইডাস ফাইন্যান্স।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত