২৯ এপ্রিল, ২০১৫ ০২:১১
বিএনপির বর্জন আর অনিয়মের অভিযোগের মধ্য দিয়ে মেষ হওয়া ঢাকার উত্তর, দক্ষিন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয়ের পথে রয়েছেন আওয়ামী লীগের তিন প্রার্থী। চট্টগ্রামে নাসির প্রায় জয়ের কাছাকাছি রয়েছেন। জয়ের সুভাস পাচ্ছেন ঢাকার আনিসুল হক এবং সাঈদ খোকনও।
মঙ্গলবার রাত দেড়টায় চট্টগ্রামের ৬৩৭টি কেন্দ্রের ঘোষিত ফলে হাতি প্রতীকের নাছির পেয়েছেন ৪,১৬,২৩৪ ভোট। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এম মনজুর আলম কমলা লেবু প্রতীকে পেয়েছেন ২,৬৭,৪৭৭ ভোট। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৭১৯টি।
অপরদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মেয়র নির্বাচনের সর্বশেষ ফলাফলে ৬৬১০১ ভোটে এগিয়ে আছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত আনিসুল হক।
মঙ্গলবার রাত দেড়টায় ৬২৩ কেন্দ্রের ঘোষিত ফলে টেবিল ঘড়ি প্রতীকে আনিসুল পেয়েছেন ২৫৩৯৯৭ ভোট। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি সমর্থিত তাবিথ আউয়াল বাস প্রতীকে পেয়েছেন ১৮৭৮৯৬ ভোট।
এছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মেয়র নির্বাচনে এই পর্যন্ত ঘোষিত ফলাফলে ১১৬৪২৭ ভোটে এগিয়ে আছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী সাঈদ খোকন।
মঙ্গলবার রাত দেড়টায় ৪৪৬ কেন্দ্রের ঘোষিত ফলে ইলিশ প্রতীকের সাঈদ খোকন পেয়েছেন ২৬১০৯৪ ভোট। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মির্জা আব্বাস মগ প্রতীকে পেয়েছেন ১৪৪৬৬৭ ভোট।
মঙ্গলবার ভোটগ্রহণের মাঝ পর্যায়ে তিন সিটিতেই বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষ থেকে কারচুপির অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
চট্টগ্রামে দিনভর ভোটগ্রহণ শেষে প্রতিটি কেন্দ্রে ভোট গণনা চলছে। এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে স্থাপিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে ফল ঘোষণা চলছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন সেখানেই রয়েছেন।
মঙ্গলবার ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের পাশাপাশি একযোগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়। চট্টগ্রামে ভোটার সংখ্যা ১৮ লাখের বেশি। চট্টগ্রামে মেয়র পদে মোট ১২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
অন্য প্রার্থীদের মধ্যে জাতীয় পার্টি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী সোলায়মান আলম শেঠ ডিশ অ্যান্টেনা প্রতীকে, বিএনএফের আরিফ মঈনুদ্দিন বাস, ইসলামী ফ্রন্টের এম এ মতিন চরকা, ইসলামিক ফ্রন্টের হোসাইন মোহাম্মদ মুজিবুল হক শুক্কুর ময়ূর প্রতীকে লড়াই করেন।
এছাড়া সৈয়দ সাজ্জাদ জোহা ক্রিকেট ব্যাট, ওয়ায়েজ হোসেন ভুঁইয়া টেবিল ঘড়ি, শফিউল আলম ইলিশ মাছ, সাইফুদ্দিন আহমেদ রবি ফ্লাক্স, আবুল কালাম আজাদ দিয়াশলাই এবং গাজী মো. আলাউদ্দিন টেলিস্কোপ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
চট্টগ্রামে ৪১টি সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ২১৭ জন ও ১৪টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে নারী কাউন্সিলর পদে ৬২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
এদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৮৮৯টি। এর মধ্যে গোলযোগের কারণে তিনটিতে ভোটগ্রহণ স্থগিত হয়েছে।
দিনভর ভোটগ্রহণ শেষে প্রতিটি কেন্দ্রে ভোট গণনা চলছে। গুলিস্তানে মহানগর নাট্যমঞ্চে স্থাপিত রিটার্নিং কর্মকর্তা মিহির সারওয়ার মোর্শেদের কার্যালয় থেকে ফল ঘোষণা চলছে।
মঙ্গলবার ঢাকা উত্তর এবং চট্টগ্রামের পাশাপাশি একযোগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়। ঢাকা দক্ষিণে ভোটার সংখ্যা প্রায় ১৯ লাখ।
বিভক্তির পর এই সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে মেয়র পদে মোট ২০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
অন্য প্রার্থীরা হলেন- জাতীয় পার্টির সাইফুদ্দিন মিলন (সোফা), বাসদের বজলুর রশীদ ফিরোজ (টেবিল), গোলাম মওলা রনি (আংটি), আসাদুজ্জামান রিপন (কমলা লেবু), মো. আকতারুজ্জামান ওরফে আয়াতুল্লাহ (লাউ), রেজাউল করিম চৌধুরী (টেবিল ঘড়ি), আব্দুল খালেক (কেক), জাহিদুর রহমান (ল্যাপটপ) ও আবু নাছের মোহাম্মদ মাসুদ হোসাইন (চরকা), বাহরানে সুলতান বাহার (শার্ট), শাহীন খান (জাহাজ), দিলীপ ভদ্র (হাতি), শহীদুল ইসলাম (বাস), শফিউল্লাহ চৌধুরী (ময়ূর), এ এস এম আকরাম (ক্রিকেট ব্যাট), আব্দুর রহমান (ফ্লাস্ক), মশিউর রহমান (চিতা বাঘ) ও আয়ুব হোসেন (ঈগল)।
ঢাকা দক্ষিণে ৫৭টি সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৩৯১ জন এবং ১৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে নারী কাউন্সিলর পদে ৯৭ প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে নামেন।
এছাড়া, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১০৯৩টি। অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও কোনো কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত হয়নি।
দিনভর ভোটগ্রহণ শেষে প্রতিটি কেন্দ্রে ভোট গণনা চলছে। আগারগাঁওয়ে স্থাপিত রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহ আলমের কার্যালয় থেকে ফল ঘোষণা চলছে।
মঙ্গলবার ঢাকা দক্ষিণ এবং চট্টগ্রামের পাশাপাশি একযোগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়। ঢাকা উত্তরে ভোটার সংখ্যা প্রায় সাড়ে ২৩ লাখ।
বিভক্তির পর এই সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে মেয়র পদে মোট ১৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
অন্য প্রার্থীরা হলেন গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি (টেলিস্কোপ), সিপিবির কাফি রতন (হাতি), জাতীয় পার্টির বাহাউদ্দিন আহমেদ বাবুল (চরকা), জাসদের নাদের চৌধুরী (ময়ূর), এ ওয়াই এম কামরুল ইসলাম (ক্রিকেট ব্যাট), কাজী মো. শহীদুল্লাহ (ইলিশ), শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদ (কমলা লেবু), শামছুল আলম চৌধুরী (চিতাবাঘ), মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিশ (ফ্লাক্স), চৌধুরী ইরাদ আহম্মদ সিদ্দিকী (লাউ), মো. আনিসুজ্জামান খোকন (ডিশ এন্টেনা), মো. জামান ভূঞা (টেবিল) ও শেখ শহিদুজ্জামান (দিয়াশলাই)।
ঢাকা উত্তরে ৩৬টি সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ২৮৩ জন এবং ১২টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে নারী কাউন্সিলর পদে ৯০ জন ভোটের লড়াইয়ে নামেন।
আপনার মন্তব্য