২৯ এপ্রিল, ২০১৫ ১৭:১২
ফেসবুকে তিনি তুমুল জনপ্রিয়। নির্বাচনে প্রচারণার অংশ হিসেবে খোলা তাঁর ফেসবুক পেজে লাইক ৮২ হাজারেরও বেশি। অথচ নির্বাচনে ভোট পেয়েছেন হাজার সাতেক। তিনি জোনায়েদ সাকি। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে মেয়র প্রার্থী হয়েছিলেন এই গণসংহতি নেতা।
এমন ইস্যুতে সরগরম সোশ্যাল সাইট ফেসবুক। অনেকে এ নিয়ে টিপাটিপ্পনি কাটছেন আবার অনেকেই বলছেন ফেসবুক মানে ভোটের প্রতিফলন নয়। ফেসবুকে অনেকেই অনেকের পেজে লাইক দেয় কিন্তু লাইক দেওয়া মানেই তাঁকে সর্বোত সমর্থন দেওয়া নয়।
যদিও মঙ্গলবার দুপুরেই কারচুপির অভিযোগ এনে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। কেবল সাকি-ই নয়, সদ্য সমাপ্ত সিটি নির্বাচনে আরও কয়েক জন প্রার্থী নিজের ফেসবুক পেজের লাইকের চেয়েও অনেক কম ভোট পেয়েছেন।
মোট গৃহীত ভোটের মধ্যে নূন্যতম ভোট না পাওয়ায় আলোচিত এসব প্রার্থীদের সকলেরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনা আইন স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) নির্বাচন বিধিমালা, ২০১০-এর ৪৪ (৩) ধারা অনুযায়ী কোনো প্রার্থী মোট নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের এক-অষ্টমাংশের কম ভোট পেলে তার জামানতের টাকা সরকারের কোষাগারে বাজেয়াপ্ত হবে।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের গণসংহতি সমর্থিত প্রার্থী জোনায়েদ সাকির ফেসবুক পেজ (আগামীর ঢাকা) লাইক সংখ্যা ৮২ হাজার ২৫৫ কিন্তু টেলিস্কোপ মার্কা নিয়ে তিনি ভোট পেয়েছেন মাত্র ৭৩৭০।
ঢাকা উত্তরের বিকল্পধারা সমর্থিত মাহী বি চৌধুরীর নির্বাচনী ফেসবুক পেজ (প্রজন্ম শহর) এর লাইক সংখ্যা ৫০ হাজারের বেশি কিন্তু ফলাফলে তিনি ঈগল প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ১৩৪০৭। একই কর্পোরেশনের নির্বাচনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সমর্থিত প্রার্থী আবদুল্লাহ আল কাফি - রতনের ফেসবুক পেজের লাইক সংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি কিন্তু হাতি প্রতীকে তাঁর বাক্সে ভোট পড়েছে মাত্র ২৪৭৫।
এছাড়াও ঢাকা দক্ষিণ থেকে নির্বাচন করা সাবেক সাংসদ এবং বিভিন্ন ইস্যুতে বহুল আলোচিত গোলাম মওলা রনি আংটি প্রতীকে ভোট পেয়েছেন মাত্র ১,৮৮৭।
এদিকে বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাজধানীর হাতিরপুলে গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ উল্লেখ করে গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেছেন, এ নির্বাচনে দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি মানুষের অনাস্থা আরও বাড়বে।
আপনার মন্তব্য